নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ:
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিএনডি অঞ্চলের ভেতরে থাকা খালগুলো খনন, সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি,পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবীরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে বিগত ডিএনডি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই সাথে বর্তমানে ডিএনডি এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণ ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার এক পর্যায়ে ডিএনডি অঞ্চলের ভেতরে থাকা ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো খনন ও সংস্কারের প্রস্তাব উঠে আসে। এসব খাল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সিটি করপোরেশনের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর বলেন, বৈঠকে ডিএনডি অঞ্চলের সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব স্ট্রাকচার নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করা। ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো খনন করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা।
তিনি আরও বলেন, খালগুলো সচল রাখার জন্য সিটি করপোরেশনের সাথে এমওইউ চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা অংশে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং নারায়ণগঞ্জ অংশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কাজ করবে। এছাড়া পানি নিষ্কাশন করে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যায় পাম্প করে ফেলার নির্দেশনা এসেছে।
জেলা প্রশাসক জানান, এই বিষয়ের উপর আরও কয়েকটি মিটিং হবে। সেখানে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের প্রস্তাবনা উঠে আসবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। আমরা আশাবাদী, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী স্যার এই বিষয়ে আন্তরিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। চলতি বর্ষা মৌসুম থেকেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, ডিএনডি প্রকল্প এলাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২০ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।
Leave a Reply