নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়নের স্মৃতি চারণ করে বলেন, বিগত সময়ে এ দেশের মানুষকে বিনা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে।
অনেকের ঘর-সংসার ভেঙে গেছে, অনেককে বাধ্য হয়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। আজ দেশে সেই ভীতিকর পরিবেশ নেই। আসুন, আমরা অতীতের ক্ষত ভুলে সবাই সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজ গড়ে তুলি।
রোববার (১৯ জুলাই) বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে দুস্থ পরিবারের মাঝে সরকারি চাল বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দীর্ঘ ২০ বছর পর মুছাপুর ইউনিয়নবাসীর ভোটে পুননির্বাচিত হওয়ায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে সরকারের আগামী দিনের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর নানা মহাপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
এসময় তিনি সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারীদের, বিশেষ করে মায়েদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, পুরুষেরা সাধারণত জীবিকার তাগিদে বাইরে ব্যস্ত থাকেন। তাই পুরো সংসারের নিয়ন্ত্রণ থাকে মায়েদের হাতে। আমাদের সন্তানরা যাতে কোনোভাবেই বিপথগামী না হতে পারে, সেদিকে মায়েদের কড়া নজর রাখতে হবে। তরুণদের অবক্ষয় আমাদের মানসিক স্বস্তি দেবে না, সমাজেরও কোনো কল্যাণ করবে না।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। কোনো অপরাধী বা সমাজবিরোধীকে কোনো অবস্থাতেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের রুখে দিতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এমপি কালাম আরও বলেন, জনবান্ধব সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘হেলথ কার্ড’ চালু হতে যাচ্ছে। এছাড়া আসছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার জনগণের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। এবার আমাদের বন্দর উপজেলায়, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ এসেছে, তা অকল্পনীয়। আমি এর আগেও সংসদ সদস্য ছিলাম, কিন্তু অতীতে এত বিপুল পরিমাণ সাহায্য-সহযোগিতা কখনো আসেনি।
ত্রাণ কার্যক্রম ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য জানান, বন্দর উপজেলার জন্য মোট ৬০ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সুষম বণ্টনের অংশ হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নে ৪৮০ জন করে উপকারভোগী নির্বাচন করে মাথাপিছু ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলাকায় ‘খালকাটা কর্মসূচি’ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply