, , ,
শিরোনামঃ
ঢাকা থেকে এমপি পুত্র সজিব আটক ; আনা হয়েছে এসপি অফিসে এক আবেদনেই বদলে গেল দিন: স্বামী হারিয়ে দিশেহারা রোকশানার পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের তাগিদ: জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় ডিসি রায়হান কবির বিকল্প শিক্ষাধারা ও শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীর উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আড়াইহাজারে কমিউনিটি ডায়ালগ কেবল নিজের পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্রকে কী দিতে পারলাম সেটাই মুখ্য বিষয় :ডিসি জাহিদ সিদ্ধিরগঞ্জে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার  চাঁদাবাজদের আতঙ্কে ভালো নেই নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা: ডা.শফিকুর রহমান কাঁচপুরে হাইওয়ে পুলিশ ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাস জব্দ চালক গ্রেপ্তার টঙ্গীবাড়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি হানিফ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব নির্বাচিত ঐতিহাসিক কদম রসুল দরগাহ পরিদর্শন ও জুমার নামাজ আদায় করলেন ডিসি রায়হান কবির

এক আবেদনেই বদলে গেল দিন: স্বামী হারিয়ে দিশেহারা রোকশানার পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ

মাত্র ১৭ দিন আগে থেমে গেছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির জীবন। সঙ্গে থমকে গেছে ২৮ বছর বয়সী রোকশানা বেগমের স্বপ্ন, ভেঙে পড়েছে চার সদস্যের ছোট্ট সংসারের নিরাপত্তার দেয়াল। স্বামীর মৃত্যুর পর দায়ে-দেনায় জর্জরিত রোকশানার জীবনে নতুন সাহস জুগিয়েছে সারা বাংলাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত বর্তমান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র মানবিক সহায়তা। একটি আবেদনপত্রই বদলে দিয়েছে তার দিন।

সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা রোকশানা এখন চট্টগ্রামে থাকেন। তার স্বামী সুমন আহমেদ পেশায় রিকশাচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলত ৮ বছরের মেয়ে আয়েশা আক্তার ও ৩ বছরের ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে তাদের সংসার। কিন্তু দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মারা যান সুমন। প্রায় তিন মাসের চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের সামান্য সঞ্চয়ও নিঃশেষ হয়ে যায়।

স্বামীর মৃত্যুর পর দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের দায়িত্ব এসে পড়ে রোকশানার কাঁধে। বাসা ভাড়া, খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচ—সবকিছু মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আত্মীয়স্বজনের সীমিত সহায়তা কয়েকদিন চললেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট ছিল না।

বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি সহায়তার আবেদন নিয়ে যান চট্টগ্রামের মানবিক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। আবেদনে তিনি লেখেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয় নেই। ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোন কিছুই করার নেই বর্তমানে।কিন্তু আমার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। তাই মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানান।

আবেদনপত্রের প্রতিটি লাইনে ফুটে ওঠে সদ্য স্বামীহারা এক নারীর অসহায়ত্ব, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা এবং টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম।

আবেদনটি নজরে আসতেই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকশানা বেগমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সহায়তা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত রোকশানা বলেন, “ডিসি স্যারের কাছে আজই আবেদন নিয়ে দেখা করেছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও স্যার ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমার সংসার কীভাবে চলছে, সন্তানদের খোঁজ নিয়েছেন, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কেউ সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার পরপরই তিনি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। এতে আমি নতুন করে সাহস পেয়েছি।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু স্বামী হারানোর পর যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখন এই সহায়তা তাকে অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—তিনি একা নন। কখনো কখনো একটি আবেদনপত্র শুধু সাহায্য চাওয়ার কাগজ নয়, সেটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারালে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, পুরো পরিবার গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে।

স্বামীকে হারানোর মাত্র ১৭ দিনের মাথায় জীবনসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা রোকশানার জন্য এই সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে তার দীর্ঘ পথচলা এখনো বাকি। প্রশাসনের এই মানবিক সহায়তা অন্তত সেই পথচলার শুরুতে তাকে নতুন করে বাঁচার সাহস ও ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।