, , ,
শিরোনামঃ
পিপিএম-সেবা পদকে ভূষিত নারায়ণগঞ্জের এসপি হাবিবুর রহমান বন্দরে প্রকাশ্যে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: এক যুবক গ্রেপ্তার, ১৮ ইঞ্চি চাকু উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জে মৃত শ্রমিক নেতাকর্মীদের স্মরণে দোয়া মাহফিল, আর্থিক সহায়তা প্রদান রাজপথে বিএনপির উপস্থিতি আতঙ্কের নয়, জনগণের নিরাপত্তার জন্য: মাসুকুল ইসলাম রাজীব মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে যে-ই হোক, কোনো ছাড় নেই: এড. সাখাওয়াত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস মামুন মাহমুদের নাশকতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এনডিএ চেয়ারম্যান রাজীবের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতের তারে দগ্ধ ৫ ছাত্রী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক রূপগঞ্জে ৮ শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থী পেল মেধা বৃত্তি ও সম্মাননা আল হেলাল কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের ব্যাচ-৯৩-এর বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে যে-ই হোক, কোনো ছাড় নেই: এড. সাখাওয়াত

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

বিশেষ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক, এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের জিমখানা লেকপাড়সংলগ্ন মাঠে পাইকপাড়া দাফন-কাফন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফিরাত কামনা ও নবগঠিত কমিটির কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, মানুষের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠার প্রধান জায়গা পরিবার। পরিবার থেকে সন্তানদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ দেওয়া না হলে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও অবক্ষয় বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, জুমার খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা, মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা এবং সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় পঞ্চায়েত বা সামাজিক কমিটি গঠন করে স্থানীয় মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকাসক্তির নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একটি পরিবারের একজন সদস্য মাদকে জড়িয়ে পড়লেও তার প্রভাব পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ছোট ছোট ভালো কাজও মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। রাস্তা থেকে একটি কলার খোসা সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দেওয়ার মতো কাজও সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয়। মানুষের উপকারে আসে—এমন প্রতিটি কাজের প্রতি সবাইকে উৎসাহিত হতে হবে।

নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নামাজ মানুষকে নৈতিক ও সৎ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের কল্যাণ ও ভালো কাজের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে।

মাদক ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত বলেন, সরকার মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের নতুন পুলিশ সুপারকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক জেলা। এ জেলার উন্নয়ন ও আধুনিক নগরায়নে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুনভাবে দায়িত্ব পাওয়া জনপ্রতিনিধিদের জনগণের জন্য দৃশ্যমান ও ইতিবাচক কাজ করে দেখাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পাইকপাড়া দাফন-কাফন কমিটির সভাপতি ও সমাজসেবক মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এস.কে ওয়াজেদ আলী বাবুল, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন মৃধা, আপন ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মো. হেলাল উদ্দিন মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. মুরাদ হোসেন বাদল, নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. ইকবাল আলী, ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক আহমেদসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

মাহফিল পরিচালনা করেন মিউচুয়াল ক্লাব পাইকপাড়ার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মোবারক হোসেন।

মাহফিলে প্রধান আলোচক হিসেবে ওয়াজ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি জামে মসজিদ, মাসদাইরের খতিব ও মিনহাজুল কোরআন ইসলামি একাডেমি ও মডেল হিফজ মাদ্রাসা, পাইকপাড়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরতুল আল্লামা মুফতি আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মো. ইকরাম হোসাইন খান। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পাইকপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরতুল আল্লামা হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ মাহবুব আলম ছিদ্দিকী, আমহাট্টা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ নোমান মজুমদার এবং বাবুরাইল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

মাহফিল শেষে মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি এবং মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।