নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় নিম্ন আদালত থেকে পুনরায় জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন আইভীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
আইনজীবী জানান, এদিন সেলিনা হায়াৎ আইভী সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মো. তুহিন (৩৬) নামে এক রিকশাচালক নিহতের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আলেয়া আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করেন। ওই মামলার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ প্রতিবেদনের বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আওলাদ হোসেন আরও জানান, এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন আইভী। তবে মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এদিকে, আইভীর আদালতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালতে হাজিরা ও শুনানি শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি। তবে আদালত থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে আইভী বলেন, “জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হয়। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৯ মে সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় দেওভোগের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
প্রায় ১৩ মাস কারাবন্দি থাকার পর গত ৩ জুন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাবেক এই মেয়র।
Leave a Reply