আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এ বছর জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তাঁরা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের বলদেব জিউর আখড়া, ভীষণ ভরা রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন সার্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিমা তৈরির অগ্রগতি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে ইতিমধ্যে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং গ্রুপ।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু মণ্ডপের সাজসজ্জা নয়, দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে এসে আরতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, আয়োজকেরা হয়তো এক মাসের পরিশ্রমে একটি অনুষ্ঠান সাজিয়ে তোলেন, কিন্তু অনেক দর্শনার্থী সারা বছর ধরে সেই আয়োজন দেখার অপেক্ষায় থাকেন। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই আয়োজনের সার্থকতা আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক সময় পুরোনো কোনো ঘটনা কিংবা এক এলাকার ছবি ও ভিডিও অন্য এলাকার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। তাই কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। এ উৎসব নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া নদীপথে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ও গুজব ছড়িয়ে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা না যায়, সে লক্ষ্যে পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply