নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘কোবরা গ্রুপ’ বা ‘সোহেল গ্রুপ’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সোহেল খন্দকারকে বিদেশি রিভলভার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি ফৌজদারি মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
এসআরবি জানায়, এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, পাঁচটি গুলি, ৭০ পুরিয়া (১০ গ্রাম) হেরোইন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার কাঠেরপুল ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। একাধিক গোপন আস্তানা ও মাদক বিক্রির স্থান পরিচালনার মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের লেনদেন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে কাঠেরপুলসংলগ্ন এলাকা মাদকের অন্যতম আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বলে দাবি করেছে এসআরবি।
এসআরবি আরও জানায়, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে সোহেল একাধিক কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি।
এ ছাড়া স্থানীয় পোশাক কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঝুটের গোডাউন মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা গোডাউনে লুটপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং ঝুট লুট করে নিয়ে যেতেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটির তথ্যমতে, এর আগেও একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সোহেল। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, “সোহেল খন্দকারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময়ে আবেদন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার জন্য সুপারিশ করা হবে।”
সোহেলের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত সুবিধাবাদী হয়ে থাকে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংস্থাটির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply