নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রী নিশা বেগমকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আব্দুর রহমানের (৫৯) সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী জানান, হাইকোর্ট আসামির মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রত্যাশা করেছিল। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত নিশা বেগম নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। দণ্ডিত আব্দুর রহমান ছিলেন তাজুল ইসলামের ভগ্নিপতি অর্থাৎ নিশা বেগমের ননদের স্বামী।
২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নিজ ঘরে ছুরিকাঘাতে খুন হন নিশা বেগম। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের ছোট ভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে আব্দুর রহমানকে আসামি করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আব্দুর রহমান প্রায়ই নিশা বেগমকে কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাকে ঘরে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে কুপ্রস্তাব দেন। এতে নিশা বেগম প্রত্যাখ্যান করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান আব্দুর রহমান। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ রাজিয়া সুলতানা আব্দুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরবর্তী সময়ে ওই মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিপক্ষ। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply