নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ দাবি করেছেন, তাঁর কারখানায় শ্রমিকদের যাতায়াত কিংবা অবস্থানের কোনো প্রমাণ নেই। এ ধরনের অভিযোগকে ‘মিথ্যা অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ বা ভিডিও ফুটেজ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে জেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান মাসুদুজ্জামান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমার শ্রমিক বা কোনো শ্রমিক আমার ফ্যাক্টরিতে গেছে, এই ধরনের কোনো প্রমাণ বা ফুটেজ আপনাদের কাছে আছে কি না, সেটা আমাদের দেখান। এগুলো একদম অপপ্রচার, মিথ্যা অপপ্রচার। এগুলো দিয়েই তো ঘটনাগুলো ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের প্রমাণ দেখান, কেউ একজন আমার ফ্যাক্টরির সামনে দাঁড়িয়েছিল কি না।”
শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে পোশাকশ্রমিকদের বেতন সাত হাজার টাকা নির্ধারণের সময়ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে আট হাজার ও নয় হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এমন আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আসলে যে মূল্য নির্ধারণ হবে, ওইভাবেই বায়ারের সঙ্গে কথা বলব।”
নিজের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি মূল্য প্রসঙ্গে মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমার বর্তমান অবস্থায় আমার সিএম এবং আমার এফওবি এগুলো নিয়ে আসলে আলোচনা পরের ব্যাপার। যেভাবে চিন্তাভাবনা করে মজুরি কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা দেশের স্বার্থ চিন্তা করেই করবে। সেখানে শ্রমিকের দিকটাও দেখবে, মালিকের দিকটাও দেখবে। এটাই আসলে মূল বিষয়।”
এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজিব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্যসচিব শাহেদ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply