নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
ফতুল্লায় একটি বাসায় চুরির ঘটনায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যমানের স্বর্ণালংকার ও রুপার গহনা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হোসেন (৪২) নামে ওই পরিবারের এক গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হোসেন শেরপুর সদর থানার চাপাতলী এলাকার মৃত কালামের ছেলে। তিনি বর্তমানে ফতুল্লার চানমারী এলাকায় জাকিরের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে চানমারী এলাকা থেকে হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চানমারীতে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপার গহনার একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী আসিফা আশরাফী (৩৪) ফতুল্লার গাবতলী টাগারপাড় এলাকায় নিজ মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বাসায় তালা দিয়ে বাইরে চলে যান।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মা ব্যক্তিগত গাড়িচালক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় যান। দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে সিটকানি লাগানো থাকায় তা খোলা সম্ভব হয়নি। এ সময় দরজার নিচের অংশ কিছুটা ভাঙা দেখতে পান তারা।
পরে তার মা তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলায় যান। সেখানে একটি ওয়ারড্রপের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ওয়ারড্রপে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও রুপার গহনা পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় ফেরেন আসিফা আশরাফী।
এ ঘটনায় তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যমানের ৫৪ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৮ ভরি ৪ আনা রুপার গহনা চুরির কথা উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গাড়িচালক হোসেন পেছনের একটি গলি দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করছেন এবং কিছুক্ষণ পর হাতে ব্যাগ নিয়ে একই রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সোমবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চানমারীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ৫৪ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকারের মধ্যে ৪৯ ভরি ১৫ আনা এবং ৮ ভরি ১৪ আনা রুপার গহনা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত গাড়িচালক আগে থেকেই চুরির পরিকল্পনা করেছিল। সে ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করেছিল এবং পরিবারের সদস্যরা কখন বাসা ফাঁকা রাখেন, সে বিষয়েও তার ধারণা ছিল। সুযোগ বুঝে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চুরি করে পালিয়ে যায়।”
ওসি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গাড়িচালক হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার গহনার একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, চুরির ঘটনার পরও হোসেন নিয়মিত গাড়ি চালানোর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যাতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ না হয়।
এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply