, , ,
শিরোনামঃ
দ্বিতীয় দিনেও লিংক রোড অবরোধ, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে শ্রমিকরা মজুরি নিয়ে আলোচনার আগেই অস্থিরতা সৃষ্টি অযৌক্তিক, শ্রমিকদের ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাজীবের শ্রমিক অসন্তোষে ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা: এমপি আজাদ বন্দরে ঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০ বন্দরে বিশেষ অভিযানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ মাসুদুজ্জামানের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ১২ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিক আন্দোলনে সতর্ক থাকার আহ্বান নাসিক ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মিয়া চাঁনের

মজুরি নিয়ে আলোচনার আগেই অস্থিরতা সৃষ্টি অযৌক্তিক, শ্রমিকদের ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাজীবের

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক হলেও মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব। তিনি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকার ইতোমধ্যে মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন করেছে। মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। আলোচনার পর শ্রমিকরা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করার অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসার আগেই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

বর্তমান সরকারের শ্রমিকবান্ধব অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাজীব বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করতে চান। দেশের অর্থনীতি সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গার্মেন্টস শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমজীবী মানুষই।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করে শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর কিংবা সম্পদ ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হওয়ার আগেই কর্মস্থল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে রাজীব বলেন, একটি নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যাকে কেন্দ্র করে অন্য এলাকায় এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানেও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুর ও সাধারণ মানুষের সম্পদ বিনষ্টের ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকরা জড়িত কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শ্রমিকদের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দেশ কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, এটি সবার। রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য দেশের সম্পদ ধ্বংস করা কিংবা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নিজ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজীব বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ যেন প্রকৃত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তার দায় সরকারের ওপর চাপাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা দেশের সম্পদ এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পমালিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের সুসম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। পাশে উপস্থিত মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজীবের ভাষ্য, অল্প কিছু মানুষের ষড়যন্ত্র বা স্বার্থের কারণে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবিকা যেন হুমকির মুখে না পড়ে। শ্রমিকদের জিম্মি করে কোনো গোষ্ঠী যেন নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে বিষয়ে মালিক, শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের ব্যবহার করে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।