নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষকে কেন্দ্র করে একটি মহল পেছন থেকে ইন্ধন দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে জেলার বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পাশাপাশি আন্দোলনের পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। যারা পরিকল্পিতভাবে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল ও সামগ্রিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চান। শ্রমিকদের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে সরকার আন্তরিক। তাই কোনো ধরনের উসকানি বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
শ্রমিকদের প্রতি বিএনপির ঐতিহাসিক অবস্থান তুলে ধরে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের কাজের সুযোগ বাড়ানো। শিল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
মজুরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনায় উঠে এসেছে, গার্মেন্টস খাতে বিভিন্ন পদ, দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো কোনো শ্রমিকের বেতন ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। একসময় মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বেতন দিয়ে এ খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কাজের ধরন বিবেচনায় নিয়ে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, শ্রমিক ভালো থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভালো থাকবে। এতে মালিকরাও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। শ্রমিকদের প্রতি আমাদের কোনো অবহেলা, অভিযোগ কিংবা আপত্তি নেই। আমরা চাই শ্রমিকরা ভালো থাকুক। প্রধানমন্ত্রীও শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে মজুরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপরও কোনো পক্ষ যদি আন্দোলনে ইন্ধন দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করে, তাদের উদ্দেশ্য ও পরিচয় খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রশ্ন বা বক্তব্য তুলে ধরা উচিত নয়, যাতে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান মাসুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও আবুল কাউসার আশা।
আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগ, সাজ্জাদ হোসেন কমল ও সাইফুল ইসলাম সজিব, সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ ও সাইফুল ইসলাম আপন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম হারুনসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
Leave a Reply