নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেন, ফুটেজে কয়েকজন দুষ্কৃতকারীর উপস্থিতি দেখা গেছে, যারা সরাসরি উসকানি ও ইন্ধন দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে একটি মহল হামলা ও ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে আমরা সেটি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ। তবে সাধারণ শ্রমিক ভাইদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা কারও বলির শিকার হবেন না।’
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে যেসব দাবি ন্যায্য বলে বিবেচিত হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই কোনো মহলের উসকানিতে পড়ে শ্রমিকদের নিজেদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রাখুন। অবশ্যই আপনাদের জন্য যেটি ন্যায্য, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply