সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলী পুল এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকারীদের বঞ্চিত করা এবং দোকান দখলের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন গিয়াস উদ্দিন। ওই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জমিজমা দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গিয়াস উদ্দিন বিএনপির নাম ব্যবহার করে একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। জমি লিখে দেওয়া কিংবা তাঁর কথামতো কাজ না করলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে কয়েকজনকে হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদক মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে। এসব পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কারও কারও জমিজমা দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পৈতৃক সম্পত্তি ও দোকান দখলের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গিয়াস উদ্দিনের চাচাতো ভাই আব্দুল আলীর ছেলে ওসমান ও তাঁর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁদের সন্তানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ওঠে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া আব্দুল আলী পুলের সামনে ওসমানের ছেলেদের মালিকানাধীন কয়েকটি দোকান দখল করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। একইভাবে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজের এক ভাতিজাকে মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
স্থানীয়দের দাবি, জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং মামলা-মোকদ্দমার ভয়ভীতির কারণে এলাকার কিছু মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কারও সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply