, , ,
শিরোনামঃ
আইনজীবী সমিতিতে হাতাহাতি: সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনোয়ার প্রধানের বন্দরে বিশেষ অভিযানে ১৯ জন গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ বার ভবনে হাতাহাতি, লাঞ্ছিত নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জে আবাসিক হোটেলে অভিযান, নারী-পুরুষসহ আটক ১৭ সিদ্ধিরগঞ্জে দুই বোন ও শিশুহত্যা মামলা আপসের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় স্বজনের লিখিত অভিযোগ বাংলাদেশে ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান অধিকারের দাবিদার’ দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের ফতুল্লায় ৪৬ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ভাড়াটিয়া তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার ছেলে গ্রেপ্তার সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ যেন না থাকে, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে: খাদ্যমন্ত্রী

সিদ্ধিরগঞ্জে দুই বোন ও শিশুহত্যা মামলা আপসের চেষ্টার অভিযোগ, থানায় স্বজনের লিখিত অভিযোগ

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই বোন ও চার বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা আপস-রফার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন সোনামিয়া (৪৮) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে সোনামিয়া দাবি করেন, হত্যা মামলার বাদী মুনমুন আক্তার ও তাঁর স্বামী মো. রুবেলকে মামলার আসামিপক্ষ নিজেদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন। এরপর থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মুনমুন মামলাটি আপস-রফার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম মিজমিজি এলাকায় স্বপ্না আক্তার (৩৫), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার (২২) এবং লামিয়ার চার বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁদের মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত দুই বোনের আরেক বোন মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লামিয়ার স্বামী ইয়াছিন (২৪), তাঁর বাবা দুলাল মিয়া (৫০) ও বোন শিমু (২৭)কে আসামি করা হয়। ঘটনার পর ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

নিহত স্বপ্না ও লামিয়ার চাচা সোনামিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে দুই দিন আগে মামলার আসামিদের মধ্যে দুজন মুনমুনের স্বামী রুবেলের বাসায় যান। পরে রুবেল ও মুনমুন তাঁদের সঙ্গে চলে যান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

সোনামিয়ার অভিযোগ, গত দুই দিন ধরে মুনমুন ও তাঁর স্বামী আসামিপক্ষের সঙ্গে অবস্থান করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তাঁরা হত্যা মামলাটি আপস-রফার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় মামলার মূল বাদীকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে হত্যা মামলা আপস-রফা বা প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সোনামিয়া। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা সুরুজ মিয়াকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।

তবে আপস-রফার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী মুনমুন আক্তার। তিনি বলেন, “খুন করেছে ইয়াছিন। বাকি দুজনের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাদের বিষয়ে আমি আপসনামা দিয়েছি। এটা কোনো জোরজবরদস্তি নয়, আমি নিজে থেকেই করেছি।”

যেভাবে ঘটেছিল তিন খুন

২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় স্বপ্না আক্তার, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার ও লামিয়ার চার বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক দিন আগে তিনজন নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর লামিয়ার স্বামী ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহতদের বোন মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে ইয়াছিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের বাড়িসংলগ্ন পুকুর থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় এবং পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সে সময় জানিয়েছিল, পারিবারিক কলহের জেরে দুই বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় এবং চার বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তিনজনের মরদেহ বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে হত্যা মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আপস-রফার অভিযোগ এবং এ বিষয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা যায়নি।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।