‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।
নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাইমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী নূর খান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ভিকারুন্নেসা বেগম, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ, সুন্দর ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। তাই তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বড়দেরও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করতে শিশুদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “আজকের শিশুই আগামীর বাংলাদেশ। শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি আমাদের জন্য গর্বের। শিশুদের অধিকার রক্ষা করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করতে পারে।
জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
Leave a Reply