নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পোশাক কারখানার মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানালে তা বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
তিনি কারখানার মালিকদের প্রতি শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে গঠিত কমিশনের কার্যক্রম ও সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে শ্রমিকদের বিস্তারিত অবহিত করার পরামর্শ দেন। মালিকপক্ষের আন্তরিকতা এবং শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া গেলে অসন্তোষ কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সংকটের শুরুতে কয়েকটি কারখানায় অস্থিরতা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মালিকপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অধিকাংশ কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় ছিল।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটের সময় প্রশাসন সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন কারখানায় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরাতে ভূমিকা রেখেছেন।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকারখানা টিকে থাকলেই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং মালিকদের ব্যবসা টিকে থাকবে। তাই শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। শ্রমিকদের দাবিগুলো প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব, বিজিবির অধিনায়ক মির্জা আরাফাত, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মিয়া এবং জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহসভাপ্রধান অঞ্জন দাসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে সামগ্রিকভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, শিল্পের স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
Leave a Reply