, , ,
শিরোনামঃ
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মাঠে জেলা প্রশাসন, বিসিক-ইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে ডিসি-এসপি রূপগঞ্জে ঢাকা বাইপাস সড়কের আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিংয়ের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণের আহ্বান নাসিক ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো: মিয়া চাঁনের সোনারগাঁয়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার বাবুরাইলে পুলিশের অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার ১ রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১ বিয়ার পানের অভিযোগে কারাদণ্ডের পর রূপগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলী আহম্মেদ বহিষ্কার ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি-নাশকতার অভিযোগে মামলা, আসামি ১ হাজার ৫২১ শিবু মার্কেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম গ্রেপ্তার

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মাঠে জেলা প্রশাসন, বিসিক-ইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে ডিসি-এসপি

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশিল্পে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসন করে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা জোরদার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পঞ্চবটি বিসিক, ফতুল্লা, শিবু মার্কেট, সাইনবোর্ড, সানারপাড় ও আদমজী ইপিজেডসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের কোথাও শ্রমিক আন্দোলনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর থেকেই জেলা প্রশাসন শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। প্রতিদিনই মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, প্রতি তিন বছর পরপর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি ছিল শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি। সরকারের পক্ষ থেকে আগেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে সামান্য বিলম্ব হলেও নাম পাওয়ার পরপরই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিনিয়র জেলা জজ পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ড কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক ও শিল্পবান্ধব। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সার্বিক কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনার জন্য তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

সম্প্রতি গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং শিল্পকারখানায় স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে মোকাবিলা করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা না হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও তাঁরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধী চক্র কারখানায় ভাঙচুর, নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি কোনো ধরনের উসকানি, অপপ্রচার ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না করে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিক-মালিক ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।