নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রচারসামগ্রী প্রস্তুতের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ টি-শার্ট ও স্টিকার জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় আরও কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. রমজান হোসেন ও এসআই (নিঃ) মো. সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে শহরের ৫৫/২৭ এসএম মালেহ রোডের রিভারভিউ কমপ্লেক্সের আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত একটি ছাপাখানায় অভিযান চালায়।
অভিযানকালে পুলিশ চারজনকে আটক করে। পুলিশের দাবি, এ সময় আরও ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শিহাব আহম্মেদ আরাফাত (২৮), মো. জিহাদ হোসেন ওরফে আলিফ (১৯), মো. সামির হোসেন খান (২৬) এবং মো. রাকিবুল হাসান (৩২)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে প্রচার-প্রচারণামূলক সামগ্রী প্রস্তুত ও বিতরণের কাজে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য আহ্বান এবং সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত ও ঘটনাস্থল থেকে পলাতকদের ফেলে যাওয়া অবস্থায় ৭০টি কালো রঙের গোলগলা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এসব টি-শার্টে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান সংবলিত ছিল। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত ৪০টি লেমিনেটেড স্টিকার এবং স্টিকারবিহীন আরও ১০টি কালো টি-শার্ট জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আলামতগুলো যথাযথ জব্দ তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ দাবি করছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচার-প্রচারণামূলক সামগ্রী তৈরির কাজে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী/১৩)-এর ৮, ৯(৩), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা, সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply