সকাল থেকে গভীর রাত—ব্যস্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মাঠে অবস্থান করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজটের কারণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলায় কাজ করছেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সদস্যদের কার্যক্রম সমন্বয় করার কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চাষাঢ়া। ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এ এলাকায় সামান্য বিশৃঙ্খলাও দ্রুত পুরো শহরের যান চলাচলে প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চাপ সামলাতে এখানে ট্রাফিক পুলিশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
এই বাস্তবতায় চাষাঢ়াসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সড়কে অবস্থান নিয়ে হাতের ইশারায় যানবাহন পরিচালনা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের গতিপথ স্বাভাবিক রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নগরবাসীর একটি অংশের অভিমত, আগে চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট কিংবা সাইনবোর্ডমুখী সড়কে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হতো। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে ও পয়েন্টে যান চলাচলে তুলনামূলক স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের নিয়মিত ও দৃশ্যমান উপস্থিতিও চালকদের মধ্যে সড়ক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করছেন।
একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, “ট্রাফিক পুলিশকে এখন রাস্তায় অনেক বেশি সক্রিয় দেখা যায়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিশেষ করে ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়াকে নিজে মাঠে থেকে পরিস্থিতি সামলাতে দেখা যায়। এতে চালকদের মধ্যেও নিয়ম মানার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।”
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনা নয়, মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জিয়াউদ্দিন খান জিয়া। ব্যস্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানবাহনের চাপ পর্যবেক্ষণ, সদস্যদের দিকনির্দেশনা এবং তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে তার সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জিয়াউদ্দিন খান জিয়া বলেন, “পুলিশ সুপার স্যারের কঠোর নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। যানজট নিয়ন্ত্রণে আমাদের টিম ২৪ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে।”
তবে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জিয়া বলেন, “রাস্তার ওপর অবৈধ হকার, ফুটপাত দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে অনেক সময় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা গেলে যানজট নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু মামলা বা জরিমানার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই না। চালক ও পথচারীদের সচেতন করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসী সহযোগিতা করলে একটি শৃঙ্খল ও গতিশীল নগর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।”
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের যানজট দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপ ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পনির্ভর শহরে শুধু ট্রাফিক পুলিশের অভিযান দিয়ে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন সম্ভব নয়। সড়ক ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং নগরবাসীর সচেতনতা—সবগুলো বিষয়কে একইসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।
এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক সদস্যদের সক্রিয়তা এবং ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়ার নেতৃত্ব নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এই উদ্যোগ কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রম এবং নগরবাসীর সহযোগিতার ওপর।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি এবং ট্রাফিক ইনচার্জ মো. জিয়াউদ্দিন খান জিয়ার মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব—এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সড়কে আরও শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরবে, এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।
Leave a Reply