, , ,
শিরোনামঃ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার ১৬ সোনারগাঁয়ে ২৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ সদরে বায়ুদূষ‌ণের দা‌য়ে দুই কারখানাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা অভিযান ঘিরে উত্তেজনার পর ওসির মাদকবিরোধী পোস্ট, বন্দরে আলোচনা সোনারগাঁয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু ফতুল্লায় যুবলীগ নেতা মিঠুকে ছাড়াতে বিএনপি নেতা রিয়াদের তদবিরের অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পি’ষ্ট হয়ে অ’জ্ঞাত নারীর মৃ’ত্যু শারদীয় দুর্গাপূজায় নারায়ণগঞ্জে ৭৫০ পুলিশ মোতায়েন থাকবে ফতুল্লায় ভেকু কেটে বিক্রির অভিযোগ, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চার খুনের পর একই বাড়িতে গোসল, খেজুর-শসা খেল দুই ঘাতক

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ 
‎রংপুর প্রতিনিধি:

‎রংপুর নগরীতে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও তাঁর মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়িতেই গোসল করা, খেজুর ও শসা খাওয়াসহ হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তাঁরা।

‎রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

‎পুলিশ কমিশনার জানান, গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কর্মরত।

‎পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে স্থানীয় সীমান্ত নামের এক ব্যক্তির বাসায় গিয়ে সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তাঁরা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

‎এ সময় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে আসার সময় সিঁড়িতে তাঁকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
‎পুলিশ কমিশনার বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী সেখানে এলে তাঁকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তাঁকে হত্যা করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গামছার পাশাপাশি গলা ও বুকে রশি পেঁচিয়ে টানা হয়। এতে তাঁর চোয়াল ভেঙে যায়।

‎পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বর সঙ্গে খেলাধুলা করতেন গণপতি চক্রবর্তীর ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। তাকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, চারজনকে হত্যার পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ওই বাড়ির বাথরুমে গিয়ে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে রাখা খেজুর ও শসা খান। পরে সেখানে বসেই তাঁরা আরও একবার ইয়াবা সেবন করেন।

‎তদন্তকারীদের ভাষ্য, বাড়িতে থাকা দুটি স্মার্টফোন থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মুছে ফেলার চেষ্টা করেন তাঁরা। এ জন্য ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে মোবাইল দুটি চুবিয়ে রাখা হয়।

‎সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার পরীক্ষা করার সময় অভিযুক্তরা আগুন জ্বালান। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়।

‎পরে মন্দিরের পেছনে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে স্বর্ণালংকারগুলো লুকিয়ে রাখেন তাঁরা। পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করেছে বলে জানানো হয়।

‎পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সকাল হয়ে যাওয়ায় আশপাশে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। ফলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় তাঁরা ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

‎এ ঘটনায় রংপুর নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।