নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরায় পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননী ঝুমুর আক্তারকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় তার মৃত্যু হয়। এই নির্মম ঘটনার পর অপরাধী জনির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার প্রবাসী ইকবালের স্ত্রী ঝুমুর আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এলাহীনগর এলাকার বাসিন্দা জনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জনি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুমুরের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেন।
সর্বস্ব হারিয়ে গত রোববার বিয়ের দাবিতে জনির বাড়িতে অবস্থান নেন ঝুমুর। সেখানে চরম মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে জনির বাড়ীত নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বাবা বাসেদ মিয়া বলেন,জনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে এখন রাতারাতি বিএনপি নেতা সেজে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। সে দম্ভ করে বলে এমপি তোদের কী করবে? ঝামেলা করলে টাকা দিয়ে থানা থেকে বের হয়ে আসবো। এলাকার লোক দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন মামলা না করি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই, জনির ফাঁসি চাই।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শম্ভুপুরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাবেদ আলী, ইউপি সদস্য শামীম, এজাজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা চালানোর তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শম্ভুপুরা ইউপি চেয়ারম্যান সাবেদ আলী নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ইউপি মেম্বার শামীম অন্যান্য মেম্বারদের নিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি।
এদিকে ইউপি সদস্য শামীম পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঝুমুরের সাথে জনির পরকীয়ার সম্পর্ক আছে মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার কথা হয়েছে। তবে এটি আইনবহির্ভূত কি না এমন প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযুক্ত জনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও গণমাধ্যমের কাছে সদুত্তর দিতে পারেননি, উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি নিউজ করে কী করবেন, কইরেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এই নির্মম ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই।
Leave a Reply