, , ,
শিরোনামঃ
ইউনিট কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, মহানগর যুবদলে সহিদুল ইসলামের একক কর্মসূচি মাকসুদের ‘নাটক’ নাকি রাজনৈতিক বিরোধ নাকি জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব? প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ সজল-সাহেদের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে মহানগর যুবদলের শোডাউন সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার সিদ্ধিরগঞ্জে তাঁতী দলের কমিটিতে ইদ্রিস হাসানের পদ, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে ভোল পাল্টানোর অভিযোগ মোমেন শিকদারের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, হাসপাতালের বারান্দা-মেঝেতেও চিকিৎসা আড়াইহাজারে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জেলা প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা নারায়ণগঞ্জে ৫ দিনব্যাপী মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

মাকসুদের ‘নাটক’ নাকি রাজনৈতিক বিরোধ নাকি জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব?

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ 

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেনের পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে মাকসুদ পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘বন্ধু ট্রেডার্স’-এ হামলা, ভাঙচুর, ম্যানেজারকে মারধর এবং কার্যালয়ে তালা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস মাকসুদ ও ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা এবং তাঁর অনুসারীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দে অবস্থান নেওয়ার পর ফেরার পথে হামলার ঘটনা ঘটে।

তবে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন আবুল কাউসার আশা। তাঁর বক্তব্য, তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে লাঙ্গলবন্দে গিয়েছিলেন এবং পরে সেখান থেকে চলে আসেন; এরপর কী ঘটেছে, তা তাঁর জানা নেই। একইভাবে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনও জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা বা ভাঙচুরের তথ্য পায়নি; বরং বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

লাঙ্গলবন্দের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে আলোচনায় আসছে মাকসুদ হোসেনের রাজনৈতিক অতীতও। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, মাকসুদ হোসেন জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন এবং ২০২৪ সালের বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবার সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, মাকসুদ পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধের ধারাবাহিকতায় তারা বর্তমানে রাজনৈতিক ও আইনগত হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং লাঙ্গলবন্দের ঘটনাটিও সেই বিরোধের অংশ হতে পারে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।

ফলে বর্তমান ঘটনাকে শুধু একটি হামলা কিংবা ভাঙচুরের অভিযোগ হিসেবে দেখলে পুরো প্রেক্ষাপটটি স্পষ্ট নাও হতে পারে। জমি নিয়ে বিরোধ, ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছু মিলিয়েই ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মাকসুদ পরিবারের অভিযোগকে কেউ কেউ রাজনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার অভিযোগকারীদের রাজনৈতিক অতীত সামনে এনে পুরো ঘটনাকে সাজানো বা ভিত্তিহীন বলারও সুযোগ নেই। ‘মাকসুদের নতুন নাটক’ নাকি সত্যিই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা—এ প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।**

এ ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও, প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব, জমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

একই সঙ্গে মাকসুদ হোসেনের রাজনৈতিক অতীত, ওসমান পরিবারের সঙ্গে তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সম্পর্ক, ২০২৪ সালের বন্দর উপজেলা নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধের ধারাবাহিকতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

কারণ অভিযোগ সত্য হলে কারা হামলায় জড়িত এবং কী কারণে হামলা হয়েছে, তা আইনি তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। আবার অভিযোগের পেছনে যদি রাজনৈতিক বা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের অন্য কোনো প্রেক্ষাপট থাকে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা প্রয়োজন।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।