নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: বিএনপির নেতাকর্মীদের টেন্ডারবাজি থেকে বিরত থেকে দলীয় কর্মকাণ্ডে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী বা তাদের স্বজনদের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর খানপুর হাসপাতালের সামনে থেকে মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি চাষাঢ়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন সাখাওয়াত ইসলাম রানা।
তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে, যেগুলো দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিশেষ করে টেন্ডারবাজি কমিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
রানা বলেন, ‘আমাদেরও কিছু ভালো কাজ করতে হবে। আমরা একটু টেন্ডারবাজি কম করি। আওয়ামী লীগের এসব দোসরকে সাইড না দিই। তাদের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বিএনপির আত্মীয়স্বজন চালাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসা ও কন্ট্রাক্টের কাজ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, এর পেছনে অর্থের উৎস কী—এসব বিষয় যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘তারা কীভাবে সেই টাকাগুলো জোগান দিচ্ছেন, তাদের ফেলে যাওয়া কন্ট্রাক্টের কাজগুলো কীভাবে বিএনপির লোকজন করছেন, এটা আসলে দুঃখজনক।’
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাখাওয়াত ইসলাম রানা বলেন, ‘এসব সঠিক তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেওয়া হোক। কারণ এই অর্থই যাতে আমাদের কাল হয়ে না দাঁড়ায়।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব যেন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর না পড়ে। রানা বলেন, ‘হয়তো টাকার জন্য আমরা অনেক কিছু করে ফেলব, কিন্তু ৫০০ জনের জন্য অনেক কিছু করে সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে।’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা প্রয়োজন। তবে মানুষের জানমালের ক্ষতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
রানা বলেন, ‘আমরা এতদিন আওয়ামী লীগকে বলেছি, আমরা মাফ করে দিয়েছি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। কিন্তু মানুষের জানমালের ক্ষতি করলে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসব। কোনো ছাড় হবে না, এক চুল পরিমাণ ছাড়ও আমরা দেব না।’
তবে একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা চাই, আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাই না।’
Leave a Reply