নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের মোঃ নবীন হোসেনের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসনের মাধ্যমে হামছাদী ও ভালুয়া দীঘিরপাড় এলাকার উদীয়মান ৬ যুবককে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের কোন কাজকর্মের ব্যবস্থা না করে তাদেরকে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে রেখেছিল প্রায় আড়াই বছর। তারা মৃত অবস্থায় পতিত হলে তাদেরকে দেশে পাঠানোর কোন উদ্যোগীই ছিল না। তিলে তিলে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য ছিল। ভাগ্যক্রমে তারা সরকারি খরচের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
জানা যায়, উপজেলার সনমান্দী ইউপির বাংলাবাজার এলাকার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের নবীন হোসেনের ৩ ছেলে মিলে এলাকার গরিব অসহায় লোকদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তারা লিভিয়া নিয়ে যায়। সেখানে নবীন হোসেনের দুই ছেলে ইমাম হোসেন ও কবির হোসেন তাদেরকে ঘরে আটকে রেখে জিম্মি করে বিভিন্ন নির্যাতন চালাতো। কোন কাজকর্ম তারা দিত না। সম্পূর্ণ দিনের মধ্যে এক বেলা খাবার দিত। এভাবে অনেক লোক জিমি করে তারা আটকে রাখতো। প্রত্যেক লোক থেকে তারা প্রায় চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে নিয়ে যেত। এভাবে মানব পাচারকারী দালালেরা কোটি টাকা ইনকাম করে এলাকায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেন এবং বিঘায় বিঘায় জমি ক্রয় করেন।
ভুক্তভোগীরা দেশে এসে তাদের কাছে বিভিন্ন নির্যাতনের কথা বলে ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তারা বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে ও চাঁদাবাজির মামলার ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীরা হলেন- মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭), পিতাঃ হাফেজ, হামছাদি, ২) রাকিব (২৬), পিতাঃ রফিকুল ইসলাম, ৩) মোঃ সাইদুর রহমান (৩০), পিতাঃ আব্দুল বাতেন, ৪) মাহবুবুর রহমান (৩২), পিতাঃ মোহাম্মদ আলী, হামছাদি, ৫) সাইদুল ইসলাম (২৩), পিতাঃ গাফফার, বালুয়াদিঘিরপাড়, সর্ব থানাঃ সোনারগাঁও, ৬) কামরুল ইসলাম (২৮), পিতাঃ আব্দুল হাকিম, ধামগর, বন্দর।
নিরুপায় হয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ভুক্তভোগীরা সোনারগাঁও থানায় মোঃ আনোয়ার, ইমাম হোসেন ও কবির হোসেন সহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।
Leave a Reply