, , ,
শিরোনামঃ
নাঃগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় মো. হাসান, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নয়—দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার দাবি সমর্থকদের বিএনপির নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবি করলে পরিচয় প্রকাশ করুন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে: এমপি আজাদ শিল্পকারখানায় অস্থিরতা এড়াতে মালিক-শ্রমিকের যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ তোলারাম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত শ্রমিক অসন্তোষে আওয়ামী লীগের ইন্ধনের অভিযোগ এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের শ্রমিক অসন্তোষে উসকানিদাতাদের ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসপির বন্দরে ১৮ মামলার আসামি ‘ডাকাত সর্দার’ আসলাম গ্রেপ্তার, সহযোগীও আটক নারায়ণগঞ্জে ৬০০ কাব স্কাউটের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান নারায়ণগঞ্জে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

শ্রমিক অসন্তোষে উসকানিদাতাদের ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসপির

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি পুলিশের সহানুভূতি রয়েছে। তবে শ্রমিকদের আবেগ ও আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে যারা উসকানি দিচ্ছেন এবং নেপথ্যে থেকে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

রোববার (৮ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি প্রশাসনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব এবং প্রশাসনও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু শ্রমিকদের ব্যবহার করে যারা বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করা হবে। উসকানিদাতাদের বিষয়ে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না।

সম্প্রতি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে এসপি বলেন, গার্মেন্টসশ্রমিকরা তাঁদেরই ভাই। তাই শুরু থেকেই বলপ্রয়োগের পরিবর্তে তাঁদের বুঝিয়ে কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির পেছনে ষড়যন্ত্র ও উসকানির বিষয়টি সামনে আসায় একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমিত মাত্রায় বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী টিয়ার গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা স্তিমিত হলেও এর পেছনে এখনো একটি মহলের তৎপরতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান পুলিশ সুপার। বিশেষ করে পরিবহন ও থ্রি-হুইলার খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবং বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে চেম্বার অব কমার্স ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা বা সমস্যা রয়েছে, সেখানে মালিকপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিজস্ব কর্মী কিংবা অর্থের বিনিময়ে আনসার সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এসপি। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর উচিত শ্রমিকদের মজুরি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও অধিকার সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করা।

সভায় মাদক, কিশোর অপরাধ ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের চলমান কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন পুলিশ সুপার। এ ক্ষেত্রে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটির পরিবর্তে ‘কিশোর অপরাধ’ পরিভাষা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, আইনগত ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘কিশোর অপরাধ’ শব্দটিই অধিক যথাযথ। জনবলসংকটের কারণে একসঙ্গে সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হলেও বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং কার্যক্রম আরও জোরদারের চেষ্টা চলছে।

নগরীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এসপি হাবিবুর রহমান। বিশেষ করে চাষাঢ়া মোড়ের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান করার তাগিদ দেন তিনি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও সেটিকে বড় ধরনের উন্নয়ন বলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাষাঢ়া মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এখনো হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রেকার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরে রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার। নারায়ণগঞ্জে এ দুই পক্ষকে ঘিরে বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা, শ্রমিক অসন্তোষ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নগরীর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।