, , ,
শিরোনামঃ
নাঃগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় মো. হাসান, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নয়—দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার দাবি সমর্থকদের বিএনপির নাম ভাঙিয়ে টাকা দাবি করলে পরিচয় প্রকাশ করুন, ব্যবস্থা নেওয়া হবে: এমপি আজাদ শিল্পকারখানায় অস্থিরতা এড়াতে মালিক-শ্রমিকের যোগাযোগ বাড়ানোর তাগিদ ডিসির সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তা নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩ তোলারাম কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত শ্রমিক অসন্তোষে আওয়ামী লীগের ইন্ধনের অভিযোগ এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের শ্রমিক অসন্তোষে উসকানিদাতাদের ছাড় নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসপির বন্দরে ১৮ মামলার আসামি ‘ডাকাত সর্দার’ আসলাম গ্রেপ্তার, সহযোগীও আটক নারায়ণগঞ্জে ৬০০ কাব স্কাউটের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান নারায়ণগঞ্জে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

নাঃগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে আলোচনায় মো. হাসান, ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নয়—দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার দাবি সমর্থকদের

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ 

মো: মিঠুন মিয়া (বিশেষ প্রতিনিধি)

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মো. হাসান। তবে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি মহল আপত্তি জানালেও এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, হাসান কোনো ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নেতা নন; বরং ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একজন পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রনেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ খবরে সংগঠনের নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে সক্রিয় থাকা একাধিক নেতা শীর্ষ পদে আসার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মো. হাসানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে হাসানকে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তাঁর সমর্থক ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা বলছেন, একজন নেতার রাজনৈতিক পরিচয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান উপস্থিতি নয়, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দায়িত্ব, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং ত্যাগের ইতিহাসও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রাজনীতি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে উঠে আসেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক টিমের সদস্য হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলা, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন হাসান। রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করেই তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছেছেন।

হাসানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করে তাঁর একাধিক সমর্থক বলেন, রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ ইতিহাস না জেনে কাউকে অপরিচিত কিংবা অনভিজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করা যথাযথ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্বে উঠে আসা একজন নেতার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং অতীতের সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে মূল্যায়ন করা উচিত।

তাঁদের আরও দাবি, হাসানের নেতৃত্বে তাঁরা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা একেবারেই নেই—এমন বক্তব্যের সঙ্গে তাঁরা একমত নন।

এদিকে নতুন কমিটিতে হাসানের সর্বোচ্চ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। তাঁদের মতে, নেতৃত্বের প্রশ্নে ব্যক্তিগত পরিচিতির চেয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবে শেষ পর্যন্ত মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় যুবদলের ওপরই নির্ভর করছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে মো. হাসানকে নিয়ে আলোচনা এখন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও দীর্ঘদিনের রাজপথের নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান একটি অংশ, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক এই নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তুলছেন তাঁর সমর্থকরা। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবেচনায় মহানগর যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে হাসানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্ব পায়।

 

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।