, , ,
শিরোনামঃ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০ জন গ্রেপ্তার, ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার রূপগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে তীব্র তাপদাহে ডিসি-এসপির যৌথ উদ্যোগে পানি-স্যালাইন বিতরণ নবীগঞ্জে ফ্ল্যাটে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগ, দুই নারীসহ আটক ৩ ৫০ ঘণ্টায় তিন খুন, আতঙ্কে বন্দর: চারজন গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতি মোঃ: মিয়া চান-এর শোক রূপগঞ্জে স্কুলবাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল নেতার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার ফতুল্লায় ৪ কেজি গাঁজাসহ কোবরা বাহিনীর তিন সদস্য গ্রেপ্তার সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, মাদকসেবীসহ গ্রেপ্তার ১৯

রূপগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা মিলেছে

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্য। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা সাহেরা বেগমের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ মাসুম, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় বেসিন থেকে পানি আনতে গেলে চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি সবুজ ফরাজীর (৪২) বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার মাহমুদাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর ছেলে। ঘটনার সময় অন্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি দেখতে পায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ১২ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও একই বিদ্যালয়ের আরও চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল সবুজ ফরাজীর বিরুদ্ধে। ওই সময় অভিযোগকারীদের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সে সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আগের তদন্তের নথি ও সিদ্ধান্তের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বর্তমান ঘটনায় অভিযোগ তুলে নিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া এবং তা প্রত্যাখ্যান করায় চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বা তাঁর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তকাজ যেন ব্যাহত বা প্রভাবিত না হয়, সে কারণে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলতে চান না তিনি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার বলেন, “এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।