নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই চিরন্তন সত্যকে বাস্তবে রূপ দিলেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।দুই পা বিকলাঙ্গ হওয়ায় কাঠের তৈরি মাচার ওপর ভর করে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য তুলে জীবন চালানো অসহায় মো. ইছহাকের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
মো. ইছহাক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানটুলি আইলপাড়া এলাকায় একটি ছোট ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। দুই পা অচল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার কোনো সুযোগ নেই তার। জীবিকার তাগিদে কাঠের তৈরি একটি মাচার ওপর বসে হাত দিয়ে ঠেলে ঠেলে চলাফেরা করেন তিনি।
কখনো প্রচণ্ড রোদ, কখনো বৃষ্টি—কোনো কিছুই যেন থামাতে পারে না তার জীবনসংগ্রাম।
মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য সাহায্যই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে তাকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ। অসহায়ত্ব আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে এভাবেই দিনের পর দিন চলছে তার জীবন।
ইছহাকের এই কষ্টকর জীবনযাত্রার বিষয়টি নজরে আসে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবের। একজন অসহায় মানুষের কষ্টকে শুধু দূর থেকে দেখেই থেমে থাকেননি তিনি। ইছহাকের চলাফেরার দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে তার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. জাকির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে হুইলচেয়ারটি অসহায় প্রতিবন্ধী মো. ইছহাকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন কাঠের মাচায় বসে হাতের ওপর ভর করে চলাফেরা করা ইছহাক হুইলচেয়ারটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মাসুকুল ইসলাম রাজীবের জন্য দোয়া করেন এবং বলেন, তার মতো একজন অসহায় মানুষের কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে বড় মানবিকতার পরিচয়।
হুইলচেয়ারটি শুধু একটি সহায়ক সামগ্রী নয়—ইছহাকের কাছে এটি যেন নতুন করে চলার স্বপ্ন, কিছুটা স্বস্তি এবং বেঁচে থাকার সাহস। দীর্ঘদিনের কষ্টের মধ্যে এই সামান্য সহযোগিতাই তার জীবনে এনে দিয়েছে বড় ধরনের আনন্দ।
স্থানীয়রা বলেন, সমাজে বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু অসহায় মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ইছহাকের মতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মাসুকুল ইসলাম রাজীব যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সমাজের অন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।
একজন মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় কিছু প্রয়োজন হয় না—কখনো একটি সহানুভূতির হাত, একটু আন্তরিকতা কিংবা প্রয়োজনের সময়ে একটি ছোট্ট সহযোগিতাই হয়ে উঠতে পারে বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন। মো. ইছহাকের হাতে তুলে দেওয়া এই হুইলচেয়ার তাই শুধু একটি উপহার নয়; এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মো: মালেক মিয়া, মো: মাসুদ, মো: দিদার, মো: মানিক, মো: সজল, মো: মেরাজ, মো: শহীদ প্রমুখ।
Leave a Reply