, , ,
শিরোনামঃ
বাবুরাইলে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, আগে থেকেই ৪ মাদক মামলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আরমান হোসেনের বার্তা, আদর্শ ও ঐক্যে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন আবুল বাসার বাদশা ফতুল্লায় স্ত্রী-সন্তান হত্যা: হারেছের মৃত্যুদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় হার নারায়ণগঞ্জ প্রমীলার ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১ সিদ্ধিরগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু যুবদল নেতা জহির ফকির হত্যা মামলা: কক্সবাজার থেকে এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮২ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-গাঁজা-হেরোইন ওয়াজ থেকে ফেরার পথে ডাকাতির মুখে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী

ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থী ফারজানার মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর স্বামীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ফারজানার স্বামী নাজমুল আলমকে আটক করেছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন ফারজানার স্বামী নাজমুল আলম (৩০), আব্দুর রহিম (৫০), স্বামীর বোন আফরোজা বেগম (৪৫), স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), স্বামীর ভাই রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৬৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পারিবারিক সম্মতিতে সাত লাখ টাকা কাবিনে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা নেন। অন্যদিকে, ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে স্বামীর কাছে যেতেন।

ফারজানার বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর সামর্থ্য অনুযায়ী জামাতাকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন তিনি। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর সেই সহযোগিতা কমে গেলে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে সমঝোতার মাধ্যমে ফারজানা ও নাজমুল আবার সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। গত ২০ অক্টোবর ফারজানা ওই বাসায় যান।

ঘটনার দিন বিকেলে নাজমুলের বোনের স্বামী ফারজানার ভাইকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলামকে ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান।

বাদীর অভিযোগ, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, আদালতে দায়ের করা মামলা নিয়ে ফারজানা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় ফারজানাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকার কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফারজানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।