নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
আগের রাতে এক বিশেষ অভিযানে বিপুল মাদক, নগদ টাকা, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার ও ১৩ জনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার (৬ মে) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং-এ র্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মাসদাইর এলাকায় মাদক সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হন র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা শাখার তিনজন সদস্য। তাদের মধ্যে দু’জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তবে, তারা আশঙ্কামুক্ত বলে ব্রিফিং-এ জানান অধিনায়ক সাজ্জাদ হোসেন।
হামলার ঘটনার পর বিকেলেই মাসদাইর ও আশেপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে র্যাব। এতে বিপুল পরিমাণ র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে পাশের পশ্চিম দেওভোগের নূর মসজিদ এলাকার দু’টি ভবনে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
তারা হলেন: মো. সোহেল রানা (৪০), মো. আব্দুর রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মো. শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মো. ইমন প্রধান (২৬), মো. আকাশ (৩০), মো. রুবেল (৩৭), মো. আরাফাত হোসেন (২৮), মো. সুজন (৩২), মো. হৃদয় মিয়া (৩২), মো. টুটুল খান (৩৮) ও মো. রেজাউল করিম (৪৮)।
এ সময় পিস্তলের ৬ রাউন্ড গুলি, সাতটি চায়নিজ কুড়াল, দু’টি রাম দা ও চারটি চাপাতিসহ বেশকিছু ধারালো অস্ত্র, চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, একটি ড্রোন, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা, ২৩৫ কেজি গাঁজা ও ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক।
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে সংস্থাটির সদর দপ্তরে ব্রিফিং-এ তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যে সকল মাদকের স্থান রয়েছে সেগুলোতে বিগত কয়েকদিন ধরে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় কিশোর গ্যাং, মাদক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসে পরিণত হয়েছিল। সেই লক্ষে ৫ মে দুপুরের দিকে র্যাবের একটি গোয়েন্দা দল সুনির্দিষ্ট মাদকের স্থান শনাক্ত করতে যায়। তাদের কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মাদকসন্ত্রাসীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা র্যাবের ওপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায় এবং র্যাবের তিনজন সদস্য আহত হয়।”
তবে গোয়েন্দা দলটি তাদের কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি এবং মাদকের স্থানগুলো শনাক্ত করেছে বলেও জানান ওই র্যাব কর্মকর্তা।
“এই অভিযান শুধু মাসদাইর এলাকার জন্য নয়, এটি নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি এলাকা ও পাড়া-মহল্লার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা। যারা কিশোর গ্যাং ও মাদকের কারবারে যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন, তাদেরকে বলতে চাই, আপনারা এখনই অন্ধকার পথ পরিত্যাগ করুন। অন্যথায় র্যাবের কঠোর অবস্থান চলমান থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে বদ্ধপরিকর।”
Leave a Reply