নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে তিনি নগরীর খানপুরে ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড়হাজির ও হাজির না থেকেও স্বাক্ষর করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এ এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল আটটার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন তিনি। কিন্তু নয়টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন।
তবে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত অনেকের স্বাক্ষর আগে থেকেই দেওয়া ছিল বলে সাংবাদিকদের জানান প্রতিমন্ত্রী।
অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।
সরাসরি সম্প্রচারে থাকা একাধিক গণমাধ্যমের ভিডিওতে তখন প্রতিমন্ত্রী দুই কর্মকর্তার কাছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চান। একইসঙ্গে তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করবেন বলে জানিয়ে গত এক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ প্রতিমন্ত্রীকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এমনকি সিসি ক্যামেরা সবগুলো সচল আছে এমন খবর তিনি আগেই নিয়েছেন বলে জানান।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিনাত ফৌজিয়া প্রতিমন্ত্রীকে জানান, একজন সহকারী কমিশনার মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং অপরজন উপজেলা পরিষদে একটু সরকারি অনুষ্ঠানে আছেন। তবে, অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির বিষয়টিকে তদন্ত করবেন বলে জানান।
প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন দুই কর্মকর্তাদের বলেন, “কোনো কারণে দশ মিনিট দেরি হতে পারে, তাই বলে তিনটা সার্কেলের কেউ থাকবে না! এটা খুবই হতাশাজনক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের আগে অফিসে যান।”
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেওয়া বক্তব্যে এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার অফিসিয়াল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে নানা অভিযোগ আসে, কিন্তু এখানের (নারায়ণগঞ্জ) অভিযোগের মাত্রাটা এখানে বেশি। সময়মতো অফিসে না আসার যে টেন্ডেন্সি বাংলাদেশে আছে, সেটি এখানেও রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বিরক্তি লেগেছে, যখন আমি আসি দুটি সার্কেল অফিসে কেউই ছিল না। কিন্তু ৩১ তারিখের সকলের স্বাক্ষর আগেই দেওয়া আছে। এটা এক্সেপ্টেবল না, এটা জালিয়াতি।”
এ ভূমি কার্যালয়ে সেবা প্রদানের মানসিকতার অভাব দেখেছেন মন্তব্য করে হেলাল উদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যে আদর্শ, উদ্দেশ্য তা এখানে এসে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাইনি। আমরা তো ব্যবস্থা নেবো কিন্তু মানুষকে সেবা দেবার যে মানসিকতা এটা আসতে হবে। ইচ্ছাশক্তি থাকলে সময়মতো আসাটা কষ্টের কিছু না। সময়মতো নিজের কাজ করাটা কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি দয়া না, এটা আমাদের দায়িত্ব। এজন্যই রাষ্ট্র আমাদের রেখেছ।”
পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply