আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় গ্রেপ্তার বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির পর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরে আরমান হোসেন (২৮) নামে ওই যুবকের বাম পা ভেঙে গেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আড়াইহাজার থানায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আরমান হোসেন। তিনি উপজেলার গহরদী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
ভুক্তভোগী আরমান হোসেনের অভিযোগ, থানায় আটক বাবাকে খাবার দিতে গেলে দারোগা রুহুল আমিন তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরে তার বাম পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলছিল। ওই মামলায় দেলোয়ারসহ কয়েকজন আসামি রয়েছেন। মামলার কার্যক্রমের একপর্যায়ে আসামিদের একজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরে দেলোয়ার গ্রেপ্তার হলে তার স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
পরিবারের দাবি, দেলোয়ার গ্রেপ্তারের পর থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এসআই রুহুল আমিন আসামির স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত এসআই রুহুল আমিন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আরমানকে আগে কখনো দেখিনি এবং চিনিও না। কে বা কারা তাকে মারধর করেছে, তা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই জানা যাবে। সে আহত হওয়ার পর আমি তাকে দেখেছি। তার কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনোভাবেই তার কাছে টাকা চাইনি।”
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, “এটি একটি মিথ্যা অভিযোগ। আরমান নামে যে ছেলেকে মারধরের কথা বলা হয়েছে, তাকে মারধর করার কোনো কারণ নেই। রুহুল আমিন এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় কার, তা তদন্ত এবং থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply