নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কথিত যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপির নেত্রী ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরুন নাহারসহ কয়েকজন নেতার তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকার একটি কার্যালয় থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নেওয়া হলে নুরুন নাহার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল প্রধান এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল প্রধানসহ কয়েকজন নেতা থানায় যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার আমিনুলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তদবির করেন নুরুন নাহারসহ ওই নেতারা। এ সময় নুরুন নাহারকে থানায় উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায় বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নুরুন নাহার থানায় গিয়ে আমিনুলকে বিএনপির কর্মী হিসেবে দাবি করেন এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি আমিনুলকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের জন্য সম্পাদিত ছবি বা তথ্য উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকার পর তিনি ফের এলাকায় সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলা ছাড়াও একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি জালকুড়ি এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অর্থ বাণিজ্য করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কার্যক্রম শুরু করেন। এ কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের একটি অংশের সহযোগিতা ও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন কথিত যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে বিএনপির নেতারা থানায় যাবেন—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। বিশেষ করে নুরুন নাহারের মতো একজন দায়িত্বশীল নেত্রীর এমন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
তাদের আরও অভিযোগ, আমিনুল গ্রেপ্তার হলে তার কথিত অবৈধ গ্যাস ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে যারা আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তাকে ছাড়াতে তদবির করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ ও ধারণা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরুন নাহারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় আমিনুলসহ ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের তদবিরের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘এটা তো আপনারা দেখেছেনই। আমরা আইনের বাইরে কিছু করতে পারি না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
নুরুন নাহারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
Leave a Reply