নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্ব এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সম্মিলিত ভূমিকার বিষয়গুলো উঠে আসে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, যুদ্ধের পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ দিবসকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন আরও আগেই হওয়া প্রয়োজন ছিল। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখা মানে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে টিকিয়ে রাখা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের উন্নয়নে তাঁর নেওয়া উদ্যোগগুলো ছিল উল্লেখযোগ্য।
জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ভাবনার ধারাবাহিকতায় তাঁর সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবীর, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী দিলারা মাসুদ ময়নাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসনের এ আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
Leave a Reply