, , ,
শিরোনামঃ
রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১ বিয়ার পানের অভিযোগে কারাদণ্ডের পর রূপগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলী আহম্মেদ বহিষ্কার ফতুল্লায় শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি-নাশকতার অভিযোগে মামলা, আসামি ১ হাজার ৫২১ শিবু মার্কেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারম গ্রেপ্তার শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, সতর্ক থাকার আহ্বান সজলের নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় সক্রিয় এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ, স্থিতিশীলতা ফেরাতে নানা উদ্যোগ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার, আন্দোলনকে পুঁজি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: সাখাওয়াত সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ১১ রূপগঞ্জ পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি, চালকসহ তিন জন গ্রেফতার

শিবু মার্কেটে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

মজুরি বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত শিবু মার্কেটের প্রধান সড়কে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে জান্নাত (১৮) নামে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুলসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা নিয়মিতভাবে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেলে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটে কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে। এ সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে পাঁচজনকে আটক করে।

স্থানীয় দোকানি জামাল মিয়া বলেন, বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বাক্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা মজুরি বৃদ্ধিসহ পাঁচ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাঁদের মারধর করেন। এরপর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর অভিযান চালায়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সকাল থেকেই শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত সোমবার ও মঙ্গলবার একই দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিশেষ করে মঙ্গলবারের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া চার শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল।

আন্দোলনকারী শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।