নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা ও জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। হোসেন সরদার রোড থেকে চারতলার মোড়, চেয়ারম্যান বাড়ি হয়ে তল্লা প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সড়কগুলো কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলোর এমন বেহাল অবস্থা চললেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। অথচ এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টসকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। রাস্তার কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। বয়স্ক মানুষ ও নারীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। দ্রুত রাস্তাগুলো সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “এই অচল রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বৃষ্টির সময় তাদের পোশাক ও বই-খাতা পানিতে ভিজে যায়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা গর্তে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের স্বার্থে অন্তত জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাগুলো সংস্কার করা দরকার।”
এলাকাবাসী আরও জানান, কর্মজীবী মানুষদেরও প্রতিদিন চরম ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। রিকশা, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনগুলোও এসব সড়কে চলাচলের সময় প্রায়ই গর্ত ও পানিতে আটকে পড়ছে। ফলে একদিকে বাড়ছে যাতায়াতের সময়, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়, জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার করতে হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমবে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন এসব রাস্তা পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে পরিদর্শনের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সংস্কারকাজে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্বদিন বলেন, “আমি নিজেও রাস্তাগুলো পরিদর্শন করে এসেছি। রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তবে এটি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে, তাই কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করে রাস্তাগুলো চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply