, , ,
শিরোনামঃ
সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক-কিশোর গ্যাংসহ অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৫৬ সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা হোসেন আলীর শরিরে ২২ সেলাই: সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে:নৌপরিবহন মন্ত্রী  রূপগঞ্জে চোরাই মোবাইলসহ গ্রেফতার ২ সোনারগাঁয়ে মাদকের আস্তানায় পুলিশের হানা উদ্ধার গাঁজা-ইয়াবা, আটক ৩০ অসুস্থ জেলা নাজির কামরুল ইসলামের সুস্থতা কামনায় সর্বস্তরের মানুষের দোয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব হলেন মো. সোহেল রানা সকল প্রকার অপরাধ ও মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে – এসপি হাবিবুর রহমান সোনারগাঁয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনুমোদনহীন ওষুধ রাখায় ৪ ফার্মেসিকে জরিমানা জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসী হামলায় বিএনপি নেতা হোসেন আলীর শরিরে ২২ সেলাই: সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তুল এলাকায় পূর্ববিরোধের জের ধরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শাকিলা আমান তুলি। তার স্বামী হোসেন আলী বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় দ্রুত হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে শাকিলা আমান তুলি দাবি করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে রোকন, মাসুদ, মামুন আব্দুল্লাহ ও মো. আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

তার অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে স্টিলের আলমারি, খাট, শোকেস, টেলিভিশন, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কুপিয়ে ও ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শাকিলা আমান তুলি বলেন, তিনি ও তার স্বামী হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্বামী হোসেন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, হাত ও পেটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে হোসেন আলী গুরুতর আহত হন এবং মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তারা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে প্রায় ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া বাড়ির দুটি স্টিলের আলমারির লকার ভেঙে প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ, স্বর্ণালংকার ও দুটি স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

হামলাকারীরা ঘটনার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শাকিলা আমান তুলি।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার পেছনের কারণ তুলে ধরেন স্ত্রী
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ( ০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শাকিলা আমান তুলি বলেন, মসজিদের জন্য চাঁদা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার স্বামীর সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে পূর্বশত্রুতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার তিন দিন পর, ৭ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়েছে; তবে সংবাদ সম্মেলনের সময় পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বাড়িতে এত নগদ টাকা রাখার কারণ জানতে চাইলে শাকিলা আমান তুলি বলেন, তাদের ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজের জন্য ওই টাকা রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, তার স্বামী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেলাই নিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পেটে ২২টি, মাথায় ৮টি, পিঠে ২টি এবং হাতে ৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

‘রামদা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা’
সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আলীর ছোট ভাই রবিন মিয়াও বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, মসজিদের মেয়াদ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাবেক সেক্রেটারি চাঁদা দাবি করেন। এ সময় তার ভাই হোসেন আলী রোকন নামে এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারেন বলে তিনি জানান। এরই জের ধরে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও রিভলভার নিয়ে তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন রবিন।

তিনি বলেন, হোসেন আলী খারাপ মানুষ হলে এলাকার মানুষ তাকে হাসপাতালে দেখতে যেতেন না। এমনকি কোলে শিশু নিয়েও অনেকে হাসপাতালে তাকে দেখতে গেছেন বলে তিনি দাবি করেন।এছাড়াও রবিন মিয়া বলেন, “আমরা সন্ত্রাসীমুক্ত সমাজ চাই। আমার ভাইয়ের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং আহত হোসেন আলীসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।