বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
শিরোনামঃ
বিএনপি নেতা হাসান-শহিদ-বাপ্পির নেতৃত্বে নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রতিমাসে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি  বিকল্প রাজনীতির কথা ভেবেছিলেন ডা. বি. চৌধুরী : ওবায়দুর রহমান বন্দরে কুড়িপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কালাম  নারায়ণগঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাসীদের অপরাধ দমনে র‌্যাবে’র কঠোর বার্তা শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার বন্দরে এক হোসিয়ারি কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  রূপগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযান ৩২০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন গ্রেপ্তার  সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক কারবারি ও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিসহ ৯ জন গ্রেপ্তার  খানপুর ৩ শ শয্যা হাসপাতাল ৫০০শয্যা হচ্ছে চলতি বছরেই : ডাক. আবুল বাসার নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে: এমপি কালাম

বিএনপি নেতা হাসান-শহিদ-বাপ্পির নেতৃত্বে নিতাইগঞ্জে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রতিমাসে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি 

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ 

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জের মোড় থেকে মন্ডলপাড়া পুল পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে লোড-আনলোডের নামে বিশাল অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড। যা জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করে। বিগত সরকার আমলে নাসিকের সাবেক মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী এই অবৈধ স্ট্যান্ডটি একাধীকবার উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরিবহন চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের কারণে উচ্ছেদ করতে পারেনি। পরবর্তীতে এক সভায় নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী ও সেলিম ওসমানের সহযোগিতায় এই স্ট্যান্ডটি পঞ্চবটী বিসিক সংলগ্ন নাসিকের খালি জায়গায় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেখানে ট্রাক স্ট্যান্ড থাকলেও পরিবহন শ্রমিক সেন্ডিকেটের কারনে সকল গাড়ি এই বঙ্গবন্ধু সড়কেই পাকিং করে রাখা হয়।

এদিকে সুত্রে জানা যায়, বিগত সরকার আমলে এই ট্রাক স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রণ করতো ওসমান পরিবার। প্রতি মাসে এই অবৈধ স্ট্যান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হতো। সেই চাঁদার মোটা অংকের ভাগ ওসমান পরিবার ও আওয়ামীলীগের কয়েকজন র্শীষ নেতার পকেটে যেত। কিন্তু ২৪’র গণঅভ্যুত্থানের ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলে, এই ট্রাক স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রণে নেন বিএনপির নামধারী ও পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতা। সেই নেতাদের ছত্রছায়ায় বর্তমানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয় এই স্ট্যান্ড থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে প্রতিদিন শত শত ট্রাক থেকে লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা হয়। বাহিরের (অন্য জেলার) গাড়ি, পাকিং জমা, শ্রমিকদের উন্নয়ন, নাইট গার্ড সহ বিভিন্ন অজুহাতে এই অবৈধ স্ট্যান্ডে প্রতিদিন গাড়ি থেকে হাজার হাজার টাকা তোলা হয়। কিন্তু এই টাকা কোন সরকারি তহবিল বা উন্নয়ন কাজে ব্যবহিত হয় না। এটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামধারী কমিটির কয়েকজন নেতার পকেট ভর্তি হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, বিএনপির নামধারী ও পদবঞ্চিত নেতা হাসান আহম্মেদ এর নামে একাধীক হত্যা মামলার আসামী ও মাদক ব্যবসায়ী সাব্বির আহাম্মদ শহিদ ও শিকদার বাপ্পির নেতৃত্বে এ চাঁদা তোলা হয়। শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটিতে সভাপতি পদে হাসান আহম্মেদ থাকলেও কোন কর্মসূচিতে সে থাকে না। তার পরবর্তীতে তারই শীর্ষ বাবুরাইল আমবাগান এলাকার র্শীষ মাদক ব্যবসায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ শহিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাদক ব্যবসায়ী সিকদার বাপ্পির নেতৃত্বে বর্তমানে এই স্ট্যান্ডে চাঁদা তোলা হয়। এছাড়াও সাব্বির আহম্মেদ শহিদ ও বাপ্পি নেতৃত্বে বাবুরাইল আমবাগান এলাকায় চলে বিভিন্ন মাদকের স্পর্ট।

আর এই দুই চাঁদাবাজের পেছনে রয়েছে হাসান আহম্মেদ এর স্ত্রী সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর। বর্তমানে হাসান অসুস্থ থাকায় তার স্ত্রী বিভা হাসানের নেতৃত্বে ট্রাক স্ট্যান্ড পরিচালনা করে এই দুই চাঁদাবাজ। প্রতিদিন শহিদ ও বাপ্পির নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের বাহির থেকে যে সকল ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান আসে, সে সকল গাড়ি থেকে টিটু ও শাহ আলমের নেতৃত্বে বড় গাড়ি প্রতি ৮শত টাকা এবং ছোট গাড়ি প্রতি ৫শত টাকা চাঁদা তোলা হয়। প্রতিদিন বাহিরের গাড়ি থেকে প্রায় ৩০হাজার টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলে। এছাড়াও ট্রান্সপোর্টের রিসিটের নামে প্রায় ৩০-৪০টি গাড়ি থেকে জুয়েল, মুন্না ও মোক্তার গাড়ি প্রতি ১৫শত থেকে ২হাজার টাকা চাঁদা তোলে।

যার প্রতিদিন ট্রান্সপোর্টের নামে ৪০হাজার থেকে ৪৫হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। রাতে স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখলে নাইট গার্ড ও পাকিং এর নামে ১শত থেকে ১৫০টাকা গাড়ি প্রতি চাঁদা তোলে বাপ্পী। সেখানে গাড়ি বেশি থাকলে, ১০-১২হাজার টাকা এবং গাড়ি কম থাকলে, ৪-৫হাজার টাকা চাঁদা উঠে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৭০-৮০হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। যা প্রতি মাসে প্রায় বিশ লক্ষ টাকা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে তোলা হয়। সেই টাকা হাসান, বিভা, শহিদ, বাপ্পি সহ আরও কয়েকজন নামধারী নেতার পকেটে যায় প্রতি মাসে। এদিকে কয়েকজন ট্রাক চালকরা জানান, প্রতিদিন শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন এসে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়। একটা ট্রাকের টিপ পাই ১৫-১৬ হাজার টাকায়।

কিন্তু তাদের সেখান থেকে ২হাজার টাকা দিতে হয়। আবার শ্রমিকদের কমিটির নামে ৫শত ও বড় গাড়ি হলে ৮শত টাকা নেয়। রাতের বেলাও ১০০-১৫০টাকা নিয়ে যায়। বছর শেষে তো আমরা কিছু পাই না। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা তোলা, আর বছরে একবার খিচুড়ী খাওয়ায় দেয়। কয়েকদিন আগে কয়েকজন শ্রমিকরে শহিদ ও বাপ্পি কিছু টাকা দিছে। এটি হচ্ছে দেখানো জন্য। আমরা যাতে চাঁদা দেই। আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদা দিতে রাজি না। এই স্ট্যান্ডের কোন ইজারা নেই, তাহলে আমরা চাঁদা দেবো কে। আমরা চাই ট্রাক স্ট্যান্ড চাঁদা মুক্ত হউক।

সুত্র: যুগের চিন্তা

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।