নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মানহানির অভিযোগেও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই যুবদল নেতা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পাক্কা রোডে নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাফি উদ্দিন রিয়াদ তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ছয় থেকে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে রিয়াদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা তুলে ধরা উচিত। কাউকে মারধরের অভিযোগ সত্য হলে তার পক্ষে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী কিংবা অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি সেসব যাচাই করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও তোলেন রাফি উদ্দিন রিয়াদ। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি অতীতে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানিতে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে জুয়ার আসর পরিচালনা ও মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেন রিয়াদ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিজের কার্যালয় নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে রিয়াদ বলেন, বাড়িটি আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবীবের স্ত্রীর নামে। সেখানে আগে একটি কার্যালয় ছিল। পরে তিনি বাড়িটি ভাড়া নেন এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেছেন। ভাড়া পরিশোধের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বাড়ির ব্যবস্থাপকের কাছ থেকেও এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করা সম্ভব।
মাঠ দখল, খেলাধুলায় বাধা, পিস্তল নিয়ে চলাফেরা, মারধর এবং বিভিন্ন দোকানপাট ও জায়গা দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেন এই যুবদল নেতা। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সামনে আনা হোক।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে রিয়াদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে গিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনে নানা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এত কষ্ট করে দলের জন্য কাজ করেছি। এখন আমাদের বিরুদ্ধেই দলকে ধ্বংস করার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, নারায়ণগঞ্জে আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকলে তা সামনে আনা হোক।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে অভিযোগকারীদের উদ্দেশে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ঘোষণা করে রিয়াদ বলেন, এই সময়ের মধ্যে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মানহানির অভিযোগেও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তিনি।
রিয়াদের দাবি, অতীতের রাজনৈতিক বিরোধ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অন্যদের উসকে দিচ্ছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযোগকারীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Leave a Reply