চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অন্যায় কিংবা বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পদ-পদবি অর্জনের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সততা, আদর্শ ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আগামী দিনে যুবদলের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য তারাই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি শেষে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম সজল সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং যুবদলের আদর্শ ও ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, যুবদলের নেতৃত্বে আসতে হলে তারেক রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে। সততা ও ন্যায়ের পথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকতে হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্যায় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনের পদ-পদবি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘদিন ধরে সততা, আদর্শ ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, আগামী দিনে তারাই যুবদলের নেতৃত্বে থাকবেন।”
যুবদলকে আদর্শ ও ত্যাগের সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে সজল বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে হবে। যারা দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যুবদলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কেউ সংগঠনের সদস্য বা পদধারী না হয়েও নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিলে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থের বিনিময়ে কাউকে সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত করার প্রবণতা থেকেও সবাইকে দূরে থাকতে হবে।
সজল আরও বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো কিংবা অন্যায়ের মাধ্যমে যুবদলে অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা সংগঠনের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পদ-পদবির চেয়ে সাংগঠনিক ত্যাগ, সততা ও নৈতিকতার মূল্যায়নই হওয়া উচিত নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান বিবেচনা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্যের শুরুতে নারায়ণগঞ্জবাসী এবং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মনিরুল ইসলাম সজল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের সংগঠন; তারেক রহমানও যুবদলকে রাজপথের শক্তি হিসেবে চেনেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সজল বলেন, এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ছাড়া বিএনপির ৪৮৭ জন নেতাকর্মীকে হত্যার অভিযোগও করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের বিরোধিতা করে সজল বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টি আর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। একইভাবে আওয়ামী লীগও বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। আগামী দিনেও তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সততা, ন্যায়নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মতে, যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি কেবল জনসমাগম কিংবা পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নেতাকর্মীদের ত্যাগ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আদর্শের মধ্যেই সংগঠনের প্রকৃত শক্তি নিহিত।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চ থেকে মনিরুল ইসলাম সজলের দেওয়া বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে—সংগঠনের নেতৃত্বে জায়গা পেতে হলে ত্যাগ ও আদর্শের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অন্যায় কিংবা দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার নয়; বরং সততা, সাংগঠনিক নিষ্ঠা ও রাজপথের ভূমিকার ভিত্তিতেই যুবদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠা উচিত।
Leave a Reply