, , ,
শিরোনামঃ
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পর খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ: সজল শীতলক্ষ্যায় প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসব বিজয়া দশমীতে নারায়ণগঞ্জে বিসর্জনের প্রস্তুতি পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার প্রতিমা বিসর্জন হবে, সম্প্রীতি নয়’—নারায়ণগঞ্জে বিভাগীয় কমিশনার নিট কনসার্নের বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, সমাধানে ২৬ অক্টোবর বৈঠক সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-২৬ দুর্গাপূজায় শহীদ রিয়া গোপের পরিবারের পাশে এনসিপি নেতারা সোনারগাঁয়ে পূজামণ্ডপের নেতাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দিলেন এমপি মান্নান আমরা সবাই বাংলাদেশি, সবাই এক’— নারায়ণগঞ্জে পূজামণ্ডপে এমপি আজাদ সিদ্ধিরগঞ্জে নীট কনসার্নের বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ, বিসর্জন না দেওয়ার ঘোষণা

শীতলক্ষ্যায় প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো নারায়ণগঞ্জের দুর্গোৎসব

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জে বিজয়া দশমীতে শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব ও সম্প্রীতির আবহ শেষে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

নগরীর ৫ নম্বর খেয়াঘাট ও বিআইডব্লিউটিএর ৩ নম্বর ঘাট এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যার তীর। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর ভক্তদের আবেগঘন মুহূর্তে উৎসবের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে বিদায়ের সুর।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এবং জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন, আমলাপাড়া, সাহাপাড়া, উকিলপাড়া, নিতাইগঞ্জ, টানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে একে একে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। এ ছাড়া শহরতলি ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপের প্রতিমা স্থানীয় নদী ও জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।

এর আগে বিজয়া দশমী উপলক্ষে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে চলে পূজা-অর্চনা। উৎসবের শেষ দিনে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। আনন্দ, আবেগ আর দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্ত ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ও গমন—দুটিই ঘোড়ায়। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানান ভক্তরা।

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিসর্জনঘাটে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে প্রতিমা নিয়ে আসেন বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ভক্তরা। পুরো আয়োজন ঘিরে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। সাদা পোশাকেও নজরদারি চালানো হয়।

এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলার ২৪০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় মণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। পূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এবারের পূজায় আনন্দ-উৎসবের কোনো কমতি ছিল না। সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আবারও প্রমাণ করেছে—‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে এবার ২৪০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন সম্পন্ন হওয়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। নারায়ণগঞ্জের মানুষ সব ধর্মের উৎসব মিলেমিশে উদযাপন করেন।

দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খান ও ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ রানা ও ডা. মজিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক এবং জেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শংকর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখণ সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, সহসভাপতি সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রদীপ কুমার দাশ, মহানগর শাখার সভাপতি লিটন চন্দ্র পালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পূজা উদযাপন পরিষদ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জজুড়ে। দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মনে যেমন তৈরি হয়েছে বিষাদের আবহ, তেমনি আগামী বছরের পূজার প্রতীক্ষাও শুরু হয়েছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।