নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
ফতুল্লায় ছিনতাইকারী অপবাদ দিয়ে জিসান নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টায় সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধিন পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জিসান একই এলাকার বাসিন্দা।
স্বজনরা জানান, স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাউছার আহমেদ সম্প্রতি এলাকার যুবকদের নিয়ে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠন নামে মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী একটি সামাজিক সংগঠন গঠন করেন।
শনিবার রাত ১০টার দিকে আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য জিসানের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যান।
এরপর হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে ও শারীরিক নির্যাতন করে জিসানকে গুরুতর আহত করেন তারা।
এক পর্যায়ে জিসান অচেতন হয়ে পড়লে ওই অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে তুলে দিয়ে চলে যান সংগঠনের সদস্যরা।
পরে স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় জিসানকে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ দিকে জিসানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে জানান স্থানীয়রা।
জিসানের পরিবারের অভিযোগ, ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে জিসানের পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলা হয়। জিসানকে ছেড়ে দিতে তারা বার বার অনুরোধ করলেও আল ফালাহ সংগঠনের সদস্যরা ক্ষান্ত হননি।
জিসানকে হত্যা করে মৃত অবস্থায় বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নিহত জিসানের পরিবার।
অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম ও আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা কাওসার আহমেদ জানান, জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি ও ছিনতাইয়ের বেশ কিছু অভিযোগ আছে।
তাকে সংশোধন করার জন্য ইতিপূর্বে অনেকবার বুঝানো হয়েছে। বেশ কয়েকবার মারধরও করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সংশোধন হননি।
শনিবার জিসান স্থানীয় এক যুবকের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করলে ওই যুবক স্থানীয়দের কাছে এসে নালিশ দেন।
পরে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে জিসানকে মারধর করেন। পরে তাকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। ঘটনায় জড়িতরা যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।
এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশের অভিযান চলছে।
Leave a Reply