ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মনিরুজ্জামান মিয়া বলেছেন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন সম্ভব হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর শীতলক্ষ্যা নদীর ৩ নম্বর মাছঘাটে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “এবারের মতো উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সারা দেশে পূজা উদযাপিত হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে এই উৎসব পালন করছেন। আমরা চাই, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকুক।”
তিনি বলেন, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সরকারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনপ্রতিনিধিরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন।
দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর প্রসঙ্গে মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি বাড়ানোয় উৎসব উদযাপনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নদীপথে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সড়কপথেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হলে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলাতেই দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতির ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার কোনো ঘটনা তাঁর চোখে পড়েনি।
সম্প্রীতি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, “দেবীকে বিসর্জন দেব, কিন্তু আমাদের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা বিসর্জন দেব না। এই সম্প্রীতি অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে যেকোনো অপশক্তি ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
দেশের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ডেঙ্গু, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ব্যক্তিগত বিরোধ ও বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসিকিউশন) মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
Leave a Reply