নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে করা দু’টি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে চেম্বার আদালত।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে আরও দশটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান সাবেক এ সিটি মেয়র। তার আইনজীবীরা বলছেন, সর্বশেষ দুই মামলায় চেম্বার আদালতের জামিন বহাল রাখার আদেশের পর এখন আর তার কারামুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
রোববার আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মোতাহের হোসেন সাজু বলেন, দশটি মামলায় হাইকোর্টের জামিন পাওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরও দু’টি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ দুই মামলাতেও অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিতের জন্য আবেদন করে।
“এই আবেদনের শুনানি হয় রোববার চেম্বার আদালতে। শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত,” যোগ করেন ওই আইনজীবী।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই বছরের ১৮ আগস্ট সারাদেশের সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হলে দায়িত্ব হারান নারায়ণগঞ্জ সিটির তিনবারের নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যা মামলায় প্রথম আইভীকে আসামি করা হয়। পরে আরও চারটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এ সিটি মেয়র। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালতে গেলে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। কিন্তু জামিন পাওয়ার দিনই আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতও পরে তা মঞ্জুর করেন।
এরপর ওই পাঁচ মামলাতেও হাইকোর্ট আইভীকে জামিন দিলে আরও দু’টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ এবং একইসঙ্গে পুরোনো মামলাগুলোর জামিন আদেশ স্থগিত করতে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
এরপর, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। সেই রিটের শুনানি শেষে গত ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট আইভীকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়।
একইসঙ্গে একের পর এক মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান বলেন, “১২ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ ও জামিন বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশে কারা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই প্রক্রিয়া শেষে চলতি সপ্তাহে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছি।”
Leave a Reply