বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
শিরোনামঃ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘মহাঅষ্টমী স্নান’ উৎসব শুরু সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে ১১ জন গ্রেপ্তার  সদর থানা পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জন গ্রেপ্তার  স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব: সাংসদ মান্নান নাসিক ৮ নং ওয়ার্ডে মহানগরী জামায়াতের ঈদ সামগ্রী বিতরণ ফ্যাক্টরির যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে ইতিহাস গড়লেন মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম মায়ের আঁচল সাহিত্য সামাজিক মৈত্রী পরিষদ কর্তৃক শতাধিক গরিব অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ নারায়ণগঞ্জ জাগ্রত যুব সংসদের উদ্যােগে সেলাই মেশিন বিতরণ নারায়ণগঞ্জে ২৭টি ওয়ার্ডে মাসুদুজ্জামানের ঈদ উপহার পেলো ৫৪০ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিন  এমপি সাহেব আপনাদে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পূরণ করার চেষ্টা করছেন: সজীব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘মহাঅষ্টমী স্নান’ উৎসব শুরু

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ 

বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ-এ ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘মহাঅষ্টমী স্নান’ উৎসব। ‘পাপমুক্তির’ এই মহা আয়োজনে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমবেত হয়েছেন।

বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো’ মন্ত্র উচ্চারণ করে লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নান শুরু করেন ভক্তরা। যা চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

এর আগে সকাল থেকেই লাঙ্গলবন্দের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে পুণ্যার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। স্নানোৎসবকে ঘিরে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বারোয়ারি মেলা। মেলায় ত্রিশূল হাতে শিবের সাজে দুই শিশুকে ঘিরে পুণ্যার্থীদের আগ্রহ দেখা যায়। অনেকে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদও নেন।

পৌরাণিক বর্ণনা অনুযায়ী, ত্রেতা যুগে মুনি পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তপস্যা করেন। পরে হিমালয়ের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন পবিত্র জলে স্নানের মাধ্যমে তিনি পাপমুক্ত হন। সেই পবিত্র জলধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে লাঙ্গল দিয়ে টেনে আনেন তিনি। তাঁর লাঙ্গল যেখানে এসে থামে, সেই স্থানটির নাম হয় লাঙ্গলবন্দ। সেই ধারাবাহিকতায় শত শত বছর ধরে এখানে স্নানোৎসব পালিত হয়ে আসছে।
স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত রয়েছে প্রশাসন।

জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “লাঙ্গলবন্দ পুণ্যস্থানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ফোর্স ডিপ্লয়মেন্ট করা হয়েছে। সিসিটিভি, ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘাটে পুলিশ রয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীরা নিরাপদে স্নান করতে পারেন।”

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “এবার চারটি নতুন ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘাটে নাব্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড টহলে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া ৬০০ জন প্রশাসনের সদস্য, পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বিএনপির প্রায় ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে স্নান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।”

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।