দীর্ঘদিন ধরে ইউনিট কমিটি গঠন না হওয়া, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের অভ্যন্তরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এবার সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম মূল কমিটির কর্মসূচির বাইরে গিয়ে পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় সহিদুল ইসলাম দলীয় কর্মসূচি এককভাবে পালনের কথা জানান। এর পরদিন, ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর যাত্রাপথের নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোড এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পৃথক শোডাউন করেন তিনি। ঘটনাটিকে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক বিভাজনের নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।
দলীয় সূত্র ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয়। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে অংশ নিয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীদের দাবি। অতীতে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন—এমন দাবিও রয়েছে তাঁর সমর্থকদের।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিট পর্যায়ে কমিটি না হওয়া এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় সহিদুল ইসলামসহ মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এবার পৃথকভাবে কর্মসূচি পালনের পথ বেছে নিয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের দাবি।
এর আগে একই ধরনের সাংগঠনিক অসন্তোষের কারণে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধানও মূল কমিটির ব্যানারের বাইরে পৃথক কর্মসূচি পালন করে আলোচনায় এসেছিলেন। ফলে সহিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক অবস্থানকে ঘিরে মহানগর যুবদলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নেতাকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর ইউনিট কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত পদ-পদবি না পাওয়ায় অনেক নেতাকর্মী হতাশ হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে গেছেন বলেও দাবি তাদের।
কেউ কেউ যুবদলের পরিবর্তে বিএনপির মূল সংগঠন কিংবা অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে সক্রিয় হয়েছেন—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত না হলে তৃণমূলে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ অবস্থায় মহানগর যুবদলের বিতর্কিত সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে মাঠের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দ্রুত ইউনিট কমিটি গঠন করে তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় দেড় বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পর মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে ইউনিট কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কয়েকটি এলাকায় কর্মীসভাও অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সেই কার্যক্রম থেমে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিট পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ-পদবির প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ এখন দ্রুত ইউনিট কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, তৃণমূলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটানো না গেলে মহানগর যুবদলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
Leave a Reply