বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
শিরোনামঃ
মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার দেশের বিভিন্ন স্থানে গণভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে: ফরিদা আখতার সাংবাদিক নাফিজ আশরাফের বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা ইকবালের মৃত্যুতে জেলা টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন’র শোক শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মাসুদুজ্জামানের দোয়া নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি আসনেই এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  সাইনবোর্ড এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সওজ বন্দরে এক ভারসাম্যহীন নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: মান্নান ফতুল্লায় সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আপেল গ্রেপ্তার  নারায়ণগঞ্জে শব্দদূষণ রোধে ৪টি যানবাহনকে জরিমানা 

মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ 

জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপহৃত ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন লতিফ সিদ্দিকী রতন ও সাব্বির। তবে অপহরণ মামলার মূলহোতা আল আমিন ওরফে জিতু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে অপহরণ ও পরবর্তীতে হুমকির ঘটনায় জড়িত দুইজনকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহাগকে ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে পটুয়াখালীতে নিয়ে যায়। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি গাড়ির ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মো. সোহাগের স্ত্রী মোসাম্মৎ তানিয়া আহাম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তার আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

তবে দীর্ঘদিন কারাবাসের পর গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কয়েকজন আসামি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে বেরিয়ে মূলহোতা আল আমিন ওরফে জিতুর নির্দেশে তারা আবারও মো. সোহাগ ও তাঁর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাঁর বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে গত ১২ জানুয়ারি মো. সোহাগ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন- পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার আব্দুর রব শেখ ও উম্মে হানি ওরফে ময়না দম্পতির ছেলে আল আমিন ওরফে জিতু (৩০), শীতলক্ষ্যা ‘ম’ খ- এলাকার দুলাল হোসেন ও শিউলী বেগমের ছেলে মো. সাকিব হোসেন (২৪), লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মো. কবির হালদার (৪০), সৈয়দপুর কড়ইতলা এলাকার মো. ছাহাদ (২৩) এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইমরান হোসেন মোহন (৩১)।

এ বিষয়ে মো. সোহাগ বলেন, “আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এদিকে স্থানীয়রা জানান, আলোচিত এই অপহরণ মামলায় জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের প্রকাশ্য হুমকি ও মহড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।