নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিজয়ী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর বিএনপি নেতা, সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
তিনি আবুল কালামকে ‘আমাদের অভিভাবক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, দল থেকে আসনটিতে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। সবাই মিলে এ আসনে কাজ করতে হবে এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করে আনতে হবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বরফকল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ সব কথা বলেন।
মাসুদুজ্জামান বলেন, “নমিনেশন ঘোষণার পরে আপনাদের সাথে ব্যাপকভাবে এই প্রথম দেখা হলো। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়, আপনারা সবসময় মনে রাখবেন। যে আমরা আগেও বলেছি মার্কা যার আমরা তার। আপনারা কখনই মন ছোট করবেন না। যারা আমাকে পছন্দ করেন, এই যাত্রায় এই পর্যন্ত আমাকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং আপনারা ব্যথিত হয়েছেন, আপনারা কষ্ট পেয়েছেন, আপনারা কেঁদেছেন, আপনারা আপনাদের আবেগ অনুভূতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমিও কষ্ট পেয়েছি কিন্তু ওই যে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা দেশের দিকে তাকাবো, দলের দিকে তাকাবো, ব্যক্তির দিকে না।”
“আমাদের এই আসনে (নারায়ণগঞ্জ-৫) আমাদের অভিভাবক, আমাদের মুরুব্বি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেবকে (মনোনয়ন) দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবো। ইনশাআল্লাহ”, যোগ করেন তিনি।
এ সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, “গত ৩০ তারিখে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ হয়েছে। উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা কোটি কোটি ভক্ত, অনুসারী, সাধারণ মানুষ বহু বৎসর যাবৎ তার জন্য দোয়া করেছি। উনি অসুস্থ ছিলেন এবং আমাদেরই দোয়ায় এবং এই দেশের মানুষেরই দোয়ায় উনি এ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। সেজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আমাদের কথা উনি অনেক শুনেছেন। আর নাহলে গত ফ্যাসিস্ট সরকার ওনার সাথে যা করেছিলেন উনাকে হয়তো অনেক আগেই চলে যেতে হতো। কিন্তু শুধুমাত্র বাংলার মানুষের দোয়ায় উনি বেঁচে ছিলেন আমাদের মাঝে।”
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের মনে-প্রাণে আজীবন গাঁথা থাকবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশ্যে মাসুদ বলেন, “আপনারা যারা তরুণ প্রজন্মের মানুষ আছেন, আপনাদের কিছু ইতিহাস জানা দরকার। উনি পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শুধু তাই ছিলেন না, উনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ছিলেন। সেখানেও তার একটা জীবন ছিল। সেই শিশু বাচ্চাদেরকে নিয়ে স্বামী হারিয়েছেন। অত্যন্ত কষ্টের জীবনযাপন উনি করেছেন। আপনারা জানেন আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অত্যন্ত ধনী বা সেই ধরনের জীবন যাপন করেননি। সেই অর্থবিত্ত-বৈভব তার কখনো ছিল না। সে সেই দুইটা সন্তানকে মানুষ করার জন্য তার যেই পরিশ্রম গিয়েছে সেটাও একটা যুদ্ধ ছিল। এবং শেষ পর্যন্ত যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে চালানো যাচ্ছিল না, দিনে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট সাত্তার সাহেবের সময় থেকে, ওই সময়ে সারা দেশব্যাপী যত জাতীয়তাবাদী লোক আছে সবাই মিলে তাকে ধরেছিলেন।”
এ বিএনপি নেতা আরও বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের অনুরোধে বিএনপির হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, “বাংলাকে বাঁচাতে সেই সময় সংসার ছেড়ে আমাদের দায়িত্ব নেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কোনোদিন কারো বিরোধিতা করেননি। আপনারা জানেন ফ্যাসিস্ট সরকারের যারা নেতৃবৃন্দ ছিল, নেত্রী ছিল, তারা তাকে কত রকমভাবে, কথায়, আইনের মার-প্যাচে জেল খাটিয়ে, বিভিন্নভাবে তার জীবন বিভীষিকাময় করে দিয়েছিল। কিন্তু উনি একটি উচ্চারণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে বলেন নাই। এই ১৭ বৎসর পরে যখন ৫ আগস্টের পরে পরিস্থিতি বদলে যায়, তখন তার কাছে অনেকেই এই ব্যাপারে জানতেও চেয়েছিল। কথাও বলতে চেয়েছিল। কিন্তু উনি একটি কথা কারো বিরুদ্ধে বলেন নাই। এত বড় মনের মানুষ ছিলেন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।”
তার আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন মাসুদুজ্জামান।
দলের ঘোষিত ৩১ দফা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের হাতকে আমরা শক্তিশালী করবো। তিনি বলেছেন, উই হ্যাভ এ প্ল্যান। আগামী দিনে যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে আগামী দিনে তার সেই সরকারকে সহযোগিতা করবো আমরা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ।”
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। পেয়েছিলেন বিএনপির মনোনয়নও। কিন্তু পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি নেতা-কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ ওনারা ওনাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাকে এই জায়গাটা পাইয়ে দিয়েছিল। পরে আমি এই জায়গাটা থেকে সরে যাই ব্যক্তিগত কারণে। আবার আপনাদের কারণেই, এই নেতাকর্মীদের কারণেই আমার নিজের ইচ্ছাকে মাটি দিয়ে আমি আবার আপনাদের কাছে আসি এবং দলের নির্দেশে আবার আমি এই জায়গাটা ফিরে আসি। কিন্তু আমাকে আবার মনে করা হইছে যে, হয়তো এ রকম আবারও যদি কিছু হয় সেই কারণে হয়তো দল ভিন্ন বিবেচনা করেছে।”
“আমি সবসময়ই জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আমরা আপনাদের পাশে আছি, এই দলের পাশে আছি। আশা করি আপনারা আমাকে ভুল বুঝবেন না। যখন যেভাবে আমাকে আপনারা বলবেন, যৌক্তিক যেকোনো কাজে আমি আপনাদের পাশে থাকবো।”
এ স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আমলাপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপি সদস্য হাজী ফারুক হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, মাহাবুব উল্লাহ তপন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু প্রমুখ।
Leave a Reply