মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
শিরোনামঃ
প্রায় ২৫ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল উদ্ধার, মজুতদাররা রাষ্ট্রের শত্রু : ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা সদর উপজেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্প নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নারায়ণগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় সর্বমহলেই প্রশংসিত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভী’র জামিন নামঞ্জুর  নারায়ণগঞ্জে ৫০ জন চাঁদাবাজের তালিকা বন্দরে ৪০ বছর বয়সী এক মন্দিরের সেবায়েতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সোনারগাঁয়ে জ্বালানি কার্যক্রম তদারকি সমন্বয় সংক্রান্ত সভা ফতুল্লায় স্টেডিয়ামের পাশে রাস্তা থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলি উদ্ধার  জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: নিরব রায়হান স্পিকারের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে বিকল্পধারার মহাসচিব ওবায়দুর রহমান মৃধার শোক

নারায়ণগঞ্জে ৫০ জন চাঁদাবাজের তালিকা

নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ 

সারাদেশে নানা খাতে চাঁদাবাজি করে বেড়ানো ব্যক্তিদের তালিকায় রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার অত্যন্ত ৫০ জনের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওইসব চাঁদাবাজরা শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ জেলার পরিবহন খাত, বাজার, হাট, খেয়াঘাট ও ব্যস্ততম সড়কের ফুটপাত থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাসে কয়েকশ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজদের এক চক্রের বিষয়ে তদন্ত করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশের একটি জাতীয় দৈনিক।

গত শনিবার ওই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বলছে, এসব চাঁদাবাজদের তালিকা ধরে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিরা জেলা পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা পুলিশও এ ব্যাপারে তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

বিশেষ করে, গণঅভ্যুত্থানের পর বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজি বিষয়টি বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নামও উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনেও একাধিকবার বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি ব্যবসায়ীরাও আইনশৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় এমন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। ফলে, পুলিশও এ বিষয়ে বিশেষ তৎপরতা দেখাচ্ছে।

জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি চলে সড়কে অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড বসিয়ে এবং ফুটপাতে। এছাড়া, বাজার ও সড়ক-নৌ টার্মিনালগুলোতেও চলে চাঁদাবাজির এক রমরমা বাণিজ্য। অন্যান্য সময়ে ‘মানি কালেক্টর’ অর্থ্যাৎ যারা কেবল মাঠপর্যায়ে চাঁদা উত্তোলন করে তারা আইনের আওতায় আসলেও এবার হাট, মাঠ, ঘাট ও সড়কে চাঁদাবাজির এই চক্রের হোতাদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত সন্ত্রাস ও মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাত, ফুটপাত, বাজার ও স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, রিকশা ও বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিদিন চালক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ড ও বাজারগুলোতে প্রতিদিন কয়েকশ’ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। যা মাসশেষে কোটি টাকা ছাড়ায়। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় দোকানদারদেরও এই চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে চাঁদা না দিলে ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া পরিবহন খাতে যান চালকদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। অটোরিকশা ও রিকশা স্ট্যান্ডে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয় চালকদের। বিভিন্ন ঘাট ও টার্মিনাল এলাকাতেও একই ধরনের চাঁদাবাজির চিত্র দেখা যায়।
প্রস্তুত করা তালিকায় প্রতিটি চাঁদাবাজের নাম, সংশ্লিষ্ট এলাকা, কার্যক্রমের ধরন, চাঁদা তোলার স্থান এবং আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদাবাজি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি কম থাকলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করে।

তালিকা প্রস্তুত হওয়ার ফলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে দীর্ঘদিনের এই অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে, কেবল তালিকা পর্যন্তই যেন ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ না থাকে, কার্যকর পদক্ষেপ যেন গ্রহণ করা হয় সে ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।

তবে, জেলা পুলিশের এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাঠপর্যায় থেকে গোয়েন্দা তদন্তের ভিত্তিতে চাঁদাবাজদের এ তালিকা করা হয়েছে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

খবরটি সবার সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরও খবর...।